Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

আমি ও তাপস

View previous topic View next topic Go down

আমি ও তাপস

Post by স্বপ্নজিত on 2012-04-02, 20:17

যাকে বলে এক্কেবারে নির্লজ্জ আত্মপ্রচার... যদি তলার গল্পটা পড়ে ভালো লাগে তো পুরো বইটা কিনতে পারেন এই জায়গা থেকেঃ

www . amazon . com/Horek-Maal-Sare-Taka-ebook/dp/B005IMPWVM/ref=sr_1_2?ie=UTF8&qid=1333372364&sr=8-2

কিন্ডল কিনতে হবেনা, সাধারণ ফোনেও পড়া যাবে।

প্রথম প্রকাশিত বই তো, তাই ভালো লাগলে একটু বন্ধু-বান্ধবদেরকেও জানাবেন।

- স্বপ্নজিত
http : // acro . batcave . net => আমার সাইট - পুরোটা বাংলায়

===================================================================



আমি ও তাপস


এই গল্প আমাকে নিয়ে, তাপসকে নিয়ে নয়।

তাপসের সঙ্গে আমার তফাত অনেক। তার মধ্যে সবচেয়ে বড়ো তফাত হলো আমার পয়সা আছে, তাপসের নেই।
আমার ড্রাইভার আমাকে আমার অফিস থেকে বিকেলবেলা বাড়ি নিয়ে আসে। বিদেশী গাড়ির রোদঢাকা কাঁচের পর্দার মধ্যে দিয়ে জানলার বাইরে অগুন্তি মানুষকে দেখি আমি। জানলার বাইরের ভিড় দেখলে অকারণে আমার ইঁদুরদের কথা মনে আসে। আর ভাবি, হয়তো তাপস ওর মধ্যে কোথাও আছে। দমবন্ধ বাসের মধ্যে একটু দাঁড়ানোর জায়্গা করে নিয়েছে হয়তো। বাসের ঝাঁকুনির মধ্যেও একটা অলসতা আছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ঢুল এসে যায়। তাপসেরও হয়তো যায়।

বাড়ি ফিরে আমি আলো-ঝলমলে বাথরুমে ঢুকি। ঠান্ডা-গরম মেশানো জল ছিটিয়ে মুখ-চোখ ধুই। বেরিয়ে সোফায় গা এলিয়ে দি।ঝি এসে চা দিয়ে যায়। টিভি চালিয়ে রিমোট কন্ট্রোল নিয়ে খেলা করি। মাঝে মাঝে অলস গলায় বলি, "ছোটোন, দুষ্টুমী কোরোনা।"

তাপস তখন কোনোরকমে বাস থেকে নামে ধস্তাধস্তির মধ্যে। বাড়ি যায়না ও। যায় টিউশনি করতে। বাস থেকে নেমেই ওর পেটের মধ্যে খিদেটা চাগাড় দেয়। ক্লাস ফাইভের বাচ্ছাকে কিশলয়ের ছড়া পড়াতে পড়াতে চোখটা থাকে কখন পড়ুয়ার মা রান্নাঘর থেকে জলখাবার পাঠাবে। মাঝে মাঝে পড়ুয়ার মা নিজেই প্লেট আর এক গেলাস জল নিয়ে আসে। তাপস জানে সেদিন বিপদ। কারন এখুনি হয়তো প্রশ্ন আসবে, ছাদের ওপরে তিনটে শালিখ-ই কেন ঝগড়া করে, চারটে বা পাঁচটা নয় কেন? তাপস উত্তরটা জানেনা। কিন্তু মনে মনে ভয় হয় পড়ুয়ার মা যদি বলে এই প্রশ্নটা পরীক্ষায় আসবে, তখন কি হবে!

কোনো কোনোদিন আবার অভিযোগ আসে, 'এ মাসে দুদিন কামাই হয়ে গেছে কিন্তু।' তাপস মাথা নিচু করে থাকে। কিন্তু মনে মনে ভাবে চুপ করে বসে না থেকে রুটি আর আলুচচ্চরিটা প্লেট থেকে নিয়ে খেতে আরম্ভ করবে কিনা।

ঘন্টাখানেক পরে তাপস যখন টিউশনি সেরে বেরিয়ে আসে তখন সন্ধ্যের অন্ধকার নেমেছে। কিন্তু দমবন্ধ গলি থেকে রাস্তায় বেরিয়ে আসতেই কোথা থেকে তিরতিরে একটা বেনো বাসন্তী হাওয়া মাথার চুলগুলোকে উড়িয়ে দিয়ে যায়। মাথার ভেতর কে যেন ফিসফিসিয়ে বলে ওঠে,

"সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন

সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;

কিন্তু সে যাকগে - এ গল্প তাপসকে নিয়ে নয়; এ গল্প আমাকে নিয়ে।

তাপস যখন একমাথা চুল নতুন হাওয়ার ঝলকে মাখিয়ে নিয়ে বাড়ি ফেরে, আমি তখন কোনোদিন ডিভিডিতে নতুন কোনো হিন্দী সিনেমা লাগিয়ে দি। আমার চোখের ওপর দিয়ে আলতো ভেসে যায় নায়কের বীরপুবঙ্গতা, নায়িকার ন্যাকামি আর তাদের মায়েদের কান্না। [/size]

কোনোদিনও বা আমার বন্ধুদের ডাকি বাড়িতে, বন্ধুরা যারা আমার মতোই কৃতী। আলোচনা করি গ্লোবাল ইকনমি বা গ্লোবাল ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে আর যখন কেউ শুনছেনা, ফিসফিস করে সমালোচনা করি সেই সব পড়ন্ত ভাগ্যের একদা-বন্ধুদের যারা এই সব পার্টিতে আর নিমন্ত্রিত হয়না।

আবার কোনোদিন শহরের নতুন কোনো রেস্তোরায় বা উচ্চবিত্তের ঝাঁ-চকচকে দোকানে গিয়ে হাজির হই সুবেশা পত্নীকে সঙ্গে নিয়ে। আমার ভূমিকা থাকে উদাস বিত্তবান ক্রেতার, যাকে আকৃষ্ট করতে ততোধিক ঝাঁ-চকচকে সেলসম্যান বা সেলসগার্লরা উঠে পড়ে চেষ্টা করে, কিন্তু একটু দূর থেকে, সাবধানে আর সম্ভ্রমের সাথে। [/size]
মনে মনে ভাবি, তাপসেরা এই জীবনটাকে উপভোগ করার সুযোগ পেলনা। আজেবাজে কাজে সময় নষ্ট করে জীবনের ধাপগুলোকে ঠিকমতো মাপে মাপে গড়ার সময় পেলনা। অনিদির্ষ্ট ভালোবাসার জিনিসকে আজীবন খুঁজে মরলো।[/size]

অথচ এই জিনিসটা তাপসকে আমি বোঝাতে পারিনি। বলতাম্, "কিসের গর্ব তোমার নিজেকে নিয়ে? পকেটে নেই ফুটো পয়সা, অথচ সর্বক্ষণ মনে সুখের প্রলেপ! এতো সুখ পাও কোথা থেকে?" [/size]

ও উত্তরে ওর বিশ্বজয় করা হাসি ছড়িয়ে দিয়ে বলতো, "সূর্য আলো ছড়িয়ে কি সুখ পায়? প্রজাপতির ডানায় রঙের ঝলমলানি কেন? দোয়েল পাখি গাছের ডালে বসে কেন সুর ছড়িয়ে দেয়? এসবের কি কোন উত্তর আছে? সুখের কোন কারন হয় না।"[/size]
আমরা একে অন্যকে বুঝতাম না ঠিক-ই, কিন্তু সত্যি বলতে কি, মনে মনে আমি তাপসকে হিংসে করতাম। কেন ও এতো সুখ পাবে? ও কি বোঝেনা সুখী হওয়া একটা মস্ত বড়ো মেশিনের মতো? সেই মেশিনের প্রতিটা নাটবল্টু একে একে ইস্পাতের গায়ে খুঁদে খুঁদে তৈরী করতে হয়! সবকিছু একদম নিখুঁত হলে তবেই না মেশিনটা সুখ উৎপাদন করবে! বেমক্কা ওরকম সুখী হলে হয় নাকি?[/size]

অথচ ওর কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। আজ নাটক, কাল গান, পরশু কবিতা নিয়ে পড়ে আছে। যখন তখন এসে পড়তো আমার কাছে। মনজয় করা হাসি হেসে নাটুকে ভাষায় বলতো, "বন্ধু, তরণী তৈয়ার। আজি রাতে মোরা ভয়কে করিব জয়। আর নহে পিছুটান, আর নহে শংকাজীর্ণ প্রহর। চলো বন্ধু, সম্মুখের নিবিড় আঁধার আজ হোক ভবিষ্যগর্ভা।"[/size]

কান দিইনি ওর কথায় কখনো। কেউ দেয় কান? অথচ ও যখন এসে পড়তো, তখন ওর কথা না শুনেও পারতামনা। বেয়াড়া ঝড়ের দাপটে যেমন কচিবাঁশের্ বেড়া উড়ে যায়, ও এলে সেরকমই কখন গা ভেসে যেত তাল-জ্ঞানহীন সময়ের স্রোতে। ও চলে গেলে নিজের কাছে দোষী সাব্যস্ত হয়ে পড়তাম। নিজেকে মনে মনে শাস্তি দিতাম সময় নষ্টের দায়ে।[/size]

এ গল্প আমার, তাপসের নয়।[/size]

আমার জীবন সঠিক মাপে গড়া। কোন কিছুই ছোটো নয়, বা বড়ো নয়। যখন যা দরকার হয়েছে, আমি কঠোর শৃঙ্খলা আর যত্নে নিজের হাতে তাদের গড়ে তুলেছি। স্কুল-কলেজে পড়াশোনায় প্রথম সারিতে রেখেছি নিজেকে। চাকরিতে ঢুকেই বুঝে নিয়েছি কোন কলকব্জা কার হাতে। সঙ্গে খেটেছিও প্রচুর। দুয়ে মিলিয়ে উন্নতির সিঁড়ি খুঁজে পেতে দেরী হয়নি। সবটা পথ এখনো যাওয়া হয়নি ঠিক-ই, কিন্তু সামনে শান-বাঁধানো রাস্তাটা দেখা যায় সহজেই।[/size]

তাপসের কথা বলতে গেলে ভুলেই গিয়েছিলাম। দৈনিক কর্মব্যস্ততায় কার-ই বা মনে থাকে ছেলেবেলাকার বন্ধুদের কথা![/size]

কিন্তু হঠাৎ-ই ও একদিন হাজির আমার অফিসে। দুপুর বেলা লাঞ্চ করে সবে নিজের ঘরে ফিরেছি। ছিমছাম সাজানো আমার অফিস। জানলার ভারী লম্বা পর্দাগুলো সারা ঘরটাকে একটা শীতল অন্ধকারের আবছায়ায় ঢেকে রাখে।[/size]

তার্ মধ্যেই দেখলাম ও ঘরের কোনে চামড়ার সোফাটায় আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে। আমি চমকে উঠে বললাম, "একি, তুমি এখানে?" ও কোন উত্তর দিলোনা। উঠে দাঁড়ালোও না। গম্ভীর মুখে আমাকে আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করতে লাগলো। মাথা উস্কোখুস্কো, পরণে গেরুয়া খদ্দরের পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা - সেই দশ বছর আগেকার মতোই।[/size]

হঠাৎ-ই ও উঠে দাঁড়ালো। তারপর আমার দিকে ব্যঙ্গপূর্ণ একটা হাসি হেসে বললো,[/size]

"বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো জলে ভেসে?[/i][/size]

চমৎকার ![/i][/size]

ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার!"[/size]

আমার ভয় হলো ও হয়তো পাগল হয়ে গেছে। কিন্তু আমি কিছু বলার আগেই ও হাওয়ায় ভাসা ধূপের গন্ধের মতো খোলা দরজা দিয়ে কোথায় মিলিয়ে গেল।[/size]

সেই আলোঝলমলানো হাসি নেই মুখে। বরঞ্চ সেখানে খিদের ছাপ সুস্পষ্ট। পুরোনো বন্ধু, যতোই তারা অপ্রিয় হোক না কেন, তাদের মুখে সেই ছাপ দেখা সুখকর নয়।[/size]

তারপর থেকে তাপস প্রায়শঃই হাজির হতে লাগলো। কখনো অফিসে, কখনো বাড়িতে। কখনো অফিস-ফেরত গাড়িতে আমার পাশের সীটে। আমার কথা শোনার কোনো আগ্রহ নেই ওর। শুধু খানিকটা বিষ্ময় আর খানিকটা যেন বিরক্তির সঙ্গে আমাকে দেখে। প্রশ্ন করলে উত্তর দেয়না। তারপর্ দু-এক লাইন কবিতা ছড়িয়ে দিয়ে হঠাৎ-ই বিদায় নেয়।[/size]

ক্রমশঃ আমি বুঝলাম যে আমার জীবনের সব কিছুই ওর এক্তিয়ারে। আমি যেখানে যাই, আমার যা কিছু চেনা-অচেনা, সুখ-দুঃখ, সবকিছুতেই ওর প্রবেশ অবাধ। [/size]

অবশেষে একদিন ব্যাপারটা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেল।[/size]

বাকিটা

www . amazon . com/Horek-Maal-Sare-Taka-ebook/dp/B005IMPWVM/ref=sr_1_2?ie=UTF8&qid=1333372364&sr=8-2

]

স্বপ্নজিত
আমি নতুন
আমি নতুন

পোষ্ট : 17
রেপুটেশন : 4
নিবন্ধন তারিখ : 01/04/2012

http://acro.batcave.net

Back to top Go down

Re: আমি ও তাপস

Post by Admin on 2012-04-03, 00:38

পরের বার লিখতে অবশ্যই একটু যত্নবান হবেন, ধন্যবাদ আপনাকে
avatar
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 806
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum