Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

রাসুলের(সাঃ)আদরশের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানঃব্যর্থ অবরোধ

View previous topic View next topic Go down

রাসুলের(সাঃ)আদরশের ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানঃব্যর্থ অবরোধ

Post by mahdi briged on 2011-06-28, 13:23







ইন্টারনেট থেকে সংগৃহিত



প্রতিটি সভ্যতার উথান-পতন আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।যেমন রোম
সাম্রাজ্য,পারস্য সাম্রাজ্য,রাশিয়ান সাম্রাজ্য ইত্যাদি।এগুলো এখন ইতিহাসের
যাদুঘরে স্থান নিয়েছে।আর আমেরিকান পুঁজিবাদের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। আর
নতুন পরাশক্তি হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অভ্যুথান আমরা সকলেই
প্রত্যক্ষ করছি।



সামরিক শিল্পের গবেষণা ও এ সংক্রান্ত উন্নত প্রযুক্তি অর্জনের
ক্ষেত্রে ইরান ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তরুণ গবেষকদের সৃষ্টিশীলতা ও
প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে ইসলামী বিপ্লবের পর ইরান সামরিক শিল্পে যে অগ্রগতি
অর্জন করেছে এক কথায় তা অবিশ্বাস্য হলেও বাস্তব। ইসলামী বিপ্লবের আগে
ইরানের সামরিক শিল্প ছিল পাশ্চাত্যের এবং বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের
দয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইরানের ভেতরে কৌশলগত বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো অস্ত্র
নির্মিত হত না। ফলে এ ধরনের অস্ত্র কেনা ও মেরামতের জন্য ইরানের বিপুল
অংকের অর্থ হাতিয়ে নিত এইসব পশ্চিমা দেশ। বিপ্লবের আগে ইরানে মান্ধাতার
আমলের কিছু মামুলি অস্ত্র নির্মিত হত । যেমন, জে-থ্রি বন্দুক, জে-থ্রি
কার্তূজ ও পিস্তলের কার্তূজ। সেযুগে অস্ত্র বিষয়ে ইরানের প্রকৌশলী ও
বিশেষজ্ঞদের জন্য গবেষণার সুযোগও রাখা হয় নি, এমনকি ইরানের সামরিক শিল্পের
অবকাঠামোও ছিল মার্কিন উপনিবেশবাদীদের দখলে বা তাদের কর্তৃত্বাধীনে।
কিন্তু ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের সামরিক শিল্পের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ
পাল্টে যায়। সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতা অর্জন ছিল এই বিপ্লবের
অন্যতম শ্লোগান। তাই ইসলামী ইরান সামরিক শিল্পে পরনির্ভরতা যথাসম্ভব কমিয়ে
আনার চেষ্টা করে। সাদ্দামকে ব্যবহার করে পাশ্চাত্য যখন ইরানের ওপর যুদ্ধ
চাপিয়ে দিল তখন ইরান তার সামরিক শিল্পকে সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ জোরদার করে।
একদিকে এই চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ এবং অন্যদিকে পাশ্চাত্যের অর্থনৈতিক অবরোধ
প্রতিরক্ষা শিল্পে ইরানীদেরকে উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল হতে বাধ্য করে। এ সময়
ইরান বিপরীত প্রকৌশল ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উৎপাদন শুরু করে।



বর্তমানে ইরান ক্ষেপনাস্ত্র, স্থল-যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক
অস্ত্র এবং নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রতিরক্ষা-সামগ্রী নির্মাণে ব্যাপক অগ্রগতি
অর্জন করেছে। বিশেষ করে বর্তমান ইরান ক্ষেপনাস্ত্র ক্ষেত্রে তাক-লাগানো
অগ্রগতি সাধন করেছে। আর এই বিস্ময়কর সাফল্য পুরোপুরি ইরানের নিজস্ব। ইরান
অত্যন্ত কম খরচে এইসব অগ্রগতি অর্জন করেছে।



বর্তমানে ইরানের বিশেষজ্ঞরা কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্রসহ
মধ্য-আকাশের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ক্ষেপনাস্ত্র এবং ভূমি থেকে
ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র, লেজার-নিয়ন্ত্রিত ক্ষেপনাস্ত্র ও
উপগ্রহ-বাহক ক্ষেপনাস্ত্রও তৈরি করছেন।



ইরানের মাঝারি পাল্লার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপনাস্ত্র হল ভূমি
থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র শাহাব-তিন এবং ফাতহ-১১০। শাহাব
শব্দের অর্থ উল্কা। এই ক্ষেপনাস্ত্রের লক্ষ্য ভেদ করার ক্ষমতা অত্যন্ত উচ্চ
মানের এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে ধ্বংস করার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।



ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রগুলো শত্রুর জঙ্গী
বিমান ও হেলিকপ্টারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুসরণ করে এবং শব্দের চেয়ে দ্রুত
গতিতে পশ্চাদধাবন করে শত্রুকে ঘায়েল করতে সক্ষম। অত্যাধুনিক
প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ এ ধরনের একটি ইরানী ক্ষেপনাস্ত্রের নাম শাহীন বা ঈগল।
হাজারো যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে গঠিত এই ক্ষেপনাস্ত্র ইরানের ওপর পাশ্চাত্যের
নিষেধাজ্ঞাগুলোর অকার্যকারীতাকেই তুলে ধরেছে।

ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য আরেকটি ইরানী ক্ষেপনাস্ত্রের নাম হল
শাহাবে সাক্বেব। এর অর্থ জ্বলন্ত বা উজ্জ্বল উল্কাপিন্ড। রাডারযুক্ত এবং
স্বয়ংক্রিয় ও কমান্ডযুক্ত এই ক্ষেপনাস্ত্র লক্ষ্যভেদে অত্যন্ত নিঁখুত বা
অন্যকথায় এতে ভুলের মাত্রা অত্যন্ত কম।



ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য আরো দুটি উল্লেখযোগ্য উন্নতমানের ইরানী
ক্ষেপনাস্ত্রের নাম মিসাক্ব-ওয়ান ও টু। মিসাক্ব শব্দের অর্থ অঙ্গীকার বা
চুক্তি। এই ক্ষেপনাস্ত্রগুলো সব দিক থেকেই নিক্ষেপ করা যায়।

ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র ভান্ডারে রয়েছে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান-বিধ্বংসী
ক্ষেপনাস্ত্র "তুফান"। এই "তুফান" ৩ হাজার ৮৫০ মিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে
আঘাত হানতে সক্ষম এবং ৭৬ সেন্টিমিটার পুরু ট্যাংক বা সাঁজোয়া যানের বডি
ভেদ করতে পারে। তুফানে যুক্ত রয়েছে রাতের বেলায় লক্ষ্যবস্তু দেখার
সরঞ্জাম এবং এটি হেলিকপ্টার থেকেও নিক্ষেপ করা যায়। অন্যদিকে কোনো কিছুই
এই ক্ষেপনাস্ত্রকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করতে বা ধ্বংস করতে পারে না।



সম্প্রতি ইরান ভূমি থেকে ভূমিতে আঘাত হানতে সক্ষম সিজ্জিল-টু নামের
একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপনাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। সিজ্জিল কয়েকটি ধাপে কাজ করে
এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিসম্পন্ন এই ক্ষেপনাস্ত্র শক্ত জ্বালানীর মাধ্যমে
পরিচালিত হয়। শক্ত জ্বালানীর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এই ক্ষেপনাস্ত্রের
গতিশীলতা অত্যন্ত বেশী। ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোস্তফা মোঃ নাজ্জার এ
প্রসঙ্গে বলেছেন, " ২৬ মিটার দৈর্ঘের আগের ক্ষেপনাস্ত্রগুলোর প্রায় ২৩
মিটারের মধ্যেই থাকতো জ্বালানী। সিজ্জিল-টু'র রয়েছে নতুন নেভিগেশন সিস্টেম
এবং এর রয়েছে সেন্সর করার অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিখুঁত ব্যবস্থা, ফলে অতীতের
ক্ষেপনাস্ত্রগুলোর চেয়ে এই ক্ষেপনাস্ত্র অনেক বেশী কার্যকরী।" বর্তমানে
ইরানে ব্যাপক পরিমাণে এই ক্ষেপনাস্ত্রের উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে তিনি
জানান।



সিজ্জিল-টু ক্ষেপনাস্ত্রকে বিজ্ঞান, সামরিক-প্রযুক্তি ও ক্ষেপনাস্ত্র
শিল্পে ইরানের অসাধারণ অগ্রগতির স্বাক্ষর বলে মনে করছেন বিশ্বের সামরিক
বিশেষজ্ঞরা। লম্বায় সম্ভব নয়। এমনকি ইহুদিবাদী ইসরাইলের
সেনা-কর্মকর্তারাও সিজ্জিল-টু ক্ষেপনাস্ত্রে শক্ত জ্বালানী ব্যবহারের
ঘটনাকে ইরানের ক্ষেপনাস্ত্র শিল্পের নজিরবিহীন অগ্রগতি বলে অভিহিত করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মাহমুদ আহমাদিনেজাদ সিজ্জিল-টু ক্ষেপনাস্ত্রকে প্রতিরক্ষা ও শান্তির জন্য নিবেদিত বলে অভিহিত করেছেন।



যে কোনো দেশের প্রতিরক্ষা শক্তির অন্যতম স্তম্ভ হলো
স্থলক্ষেত্রের প্রতিরক্ষা শক্তি। ইরান বর্তমানে এ ক্ষেত্রে এক অসাধারণ
উন্নত অবস্থায় রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জনাব মোস্তফা
মোঃ নজ্জার বলেছেন, "ইরান তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দিক থেকে হুমকির আলোকে
সামরিক কৌশল প্রনয়ন করছে এবং অস্ত্র উৎপাদন করছে। ইরানের প্রতিরক্ষা
সামগ্রীর শতকরা ৯৫ ভাগ ইরানেই উৎপাদন করা হচ্ছে এবং ইরানী বিশেষজ্ঞরা
নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করেই এসব প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন করছেন। "



ইরানের নতুন প্রজন্মের বিজ্ঞানীরা স্থল বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের
হাল্কা ও ভারী প্রতিরক্ষা সামগ্রী নির্মাণ করছে। বিভিন্ন ধরনের ট্যাংক ও
সাঁজোয়া যান এসবের মধ্যে অন্যতম। উদাহরণ হিসেবে জুলফিক্বার-ওয়ান,
জুলফিক্বার-টু ও জুলফিক্বার-থ্রি ট্যাংকের নাম উল্লেখ করা যায়। ইরানের
নির্মিত "বুরাক্ব" নামের সাঁজোয়া যানটি জলে ও ডাঙ্গায় চলতে সক্ষম। এই
"বুরাক্ব" ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা বা
এস এম-ফাইভ বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র-ব্যবস্থা সজ্জিত। ইরান
স্বয়ংক্রিয় ও আধা-স্বয়ংক্রিয় কামানও তৈরি করছে। ইরান তাফতান নামের একটি
মাইন ডিকেক্টর নির্মাণ করছে। এই যন্ত্র মাটির নীচে ৫ মিটারেরও বেশী গভীরে
প্রোথিত মাইন সনাক্ত করতে পারে এবং বিভিন্ন ধরনের মাইন নিস্ক্রিয় করতে
সক্ষম। এই যন্ত্র দূর-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহার করা যায়।



ইরানের স্থল বাহিনী বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত সাঁজোয়া যান নির্মাণ করছে।
এসব যান সামরিক কাজেও ব্যবহার করা যায়, আবার প্রয়োজনে বেসামরিক কাজেও
ব্যবহার করা যায়। এই বাহিনী বিশেষ ধরনের উন্নত বা অত্যাধুনিক বন্দুক
নির্মাণ করছে। এসব বন্দুকের গুলির আধার বা ম্যাগাজিন ট্রিগারের সামনের
পরিবর্তে পেছনে থাকে। ফলে এ ধরনের বন্দুক প্রচলিত বন্দুকের চেয়ে অনেক
হাল্কা এবং এর ব্যবহার অপেক্ষাকৃত সহজ।



ইরান ইলেকট্রনিক প্রতিরক্ষা শিল্পেও ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে। তাই
ইরানের অধিকাংশ অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক
যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত। এইসব ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার কারণে ইরানের প্রতিরক্ষা
সামগ্রীর কার্যকারীতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান এখন বিভিন্ন ধরনের তারবিহীন
যোগাযোগ-সামগ্রী বা ওয়ারল্যাস ও অপটিকেল সামগ্রী নির্মাণ করছে এবং
এক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। পানির নীচের টেলিফোন ও পানির নীচের
শব্দ শোনার যন্ত্রপাতি বা sonar equiepmentsও নির্মাণ করছেন ইরানের
বিশেষজ্ঞরা। এসব যন্ত্রের মাধ্যমে পানির নীচে থাকা শত্রুর অস্ত্র চিহ্নিত
করা যায়।

বর্তমানে ইরানী বিশেষজ্ঞরা প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বিভিন্ন ধরনের
মাইক্রোইলেকট্রনিক ও অপটোইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নির্মাণ করছেন। এসব
যন্ত্রপাতি বিমান শিল্পে ব্যবহৃত হয়। ইরান বিভিন্ন ধরনের রাডার ও বি এম ডি
-থ্রি নির্মাণ করছে যেগুলো শত্রুর ক্ষেপনাস্ত্রগুলোকে সনাক্ত করতে সক্ষম।



নৌ-প্রতিরক্ষায়ও ইরান অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন ধরনের
স্পীডবোট, ক্ষেপাস্ত্রবাহী রণতরী, রসদবাহী রণতরী ও সাবমেরিন নির্মিত হচ্ছে
ইরানে। ইরান নৌ যুদ্ধে ব্যবহারের উপযোগী বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র ও
ইলেকট্রনিক সামগ্রী নির্মাণ করছে। ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি একটি
বিশেষ সাবমেরিনের নাম আসসাবাহাত। ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান জনাব হাবিবুল্লাহ
সাইয়ারী জানিয়েছেন, ইরানের নৌ-প্রতিরক্ষা সংস্থা গ্বাদির নামের বিশেষ
ধরনের সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ নির্মাণ করেছে। এই ডুবোজাহাজের মডেলও ইরানের
নিজস্ব। এ ছাড়াও ইরান বিভিন্ন ধরনের হাল্কা ডুবোজাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে
পানির নীচে ও গভীর সমুদ্রে ইরানের নৌবাহিনীর প্রতিরক্ষা ক্ষমতা ব্যাপক
মাত্রায় বৃদ্ধি করেছে। ইরান ক্ষেপনাস্ত্রবাহী ছোট ছোট যুদ্ধ জাহাজ নির্মাণ
করছে বলেও ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন। তিনি আরো জানান, ইরান
বিভিন্ন ধরনের ৬০ টিরও বেশী যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করছে। এসবের মধ্যে রয়েছে
ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপনাস্ত্রবাহী ছোট ছোট যুদ্ধ জাহাজ এবং পানির উপরে ও পানির
গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হেলিকপ্টার।



সম্প্রতি ইরানী বিশেষজ্ঞরা রাডারকে এড়িয়ে যেতে বা ফাঁকি দিতে সক্ষম
স্মার্ট সাবমেরিন নির্মাণ করেছেন। আরোহীবিহীন ও ছোট আকারের এই সাবমেরিন
রোবটের মত কাজ করে এবং এটি পানির ওপরে ভাসমান ও নীচে থাকা বিভিন্ন ধরনের
জাহাজের ভিডিও-চিত্র ও স্থিরচিত্র তুলে তা অন-লাইন সার্ভিসের মত কমান্ড
কেন্দ্রে পাঠাতে পারে। এই সাবমেরিনের কাছে কোনো ডুবুরি চলে আসলে সে তা
বুঝতে পারে এবং তখন এটি পানিতে বায়েক্যামিকেল দ্রব্য ছাড়তে থাকে। আর এইসব
বায়েক্যামিকেল দ্রব্য খেতে মাছের সমারোহ ঘটলে শত্রুপক্ষ আর এই সাবমেরিনকে
চিনতে সক্ষম হবে না।



ইরানের কয়েকজন তরুণ বিজ্ঞানী যুদ্ধ করতে সক্ষম এমন কয়েকটি রোবেট
তৈরি করেছেন। রোবাটিক বাহু, অগ্নিনির্বাপক রোবট, রোবট-সেনা, গাড়ী-চালক
রোবট তৈরি করে এই ৫ ইরানী তরুণ সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। অগ্নিনির্বাপক
রোবট জঙ্গলে বা বনে ও নদীতে যেতে এবং দূর্গম পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। রোবাটিক
বাহু নতুন সিস্টেমে কম খরচে তৈরি করা হলেও এর রয়েছে অনেক কার্যকারীতা।
রোবট-সেনা যুদ্ধ ও সংঘাতে অংশ নিতে সক্ষম। এ ছাড়াও ত্রাণ-সহায়ক রোবট
ভূমিকম্প বা ঘর-বাড়ী বিধ্বস্ত হবার মত ঘটনায় পেশাদার ত্রাণকর্মীর মত
বিভিন্ন বাধা বা দূর্গম পথ অতিক্রম করে আহতদের সহায়তা করতে সক্ষম।



এখন আমরা নৌ-প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতির আরো কিছু চিত্র তুলে ধরবো।

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় রয়েছে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগর। তাই
ইরানের জন্য নৌ-প্রতিরক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উপকূলীয় এই অঞ্চলে ইরানের
নৌ-সেনারা অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। ইরানের বীর সেনাদের এই
শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে ইরানী প্রকৌশলী ও বিশেষজ্ঞদের
বিভিন্ন আবিস্কার বা উদ্ভাবন। যুগের চাহিদা অনুযায়ী ইরানের নৌবাহিনীকে
বিভিন্ন নতুন বা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জামে সজ্জিত করা হয়েছে।
ইরানের নির্মিত বিভিন্ন ধরনের রণতরী এইসব প্রতিরক্ষা সামগ্রীর মধ্যে
উল্লেখযোগ্য।



ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী
ইরানের নৌবাহিনীর আধ্যাত্মিক ও মানবীয় গুণাবলীর প্রশংসার পাশাপাশি তাদের
কৌশলগত দক্ষতা, অস্ত্র-শক্তি এবং যুদ্ধ-ক্ষমতারও প্রশংসা করেছেন। তিনি এ
প্রসঙ্গে বলেছেন, বর্তমানে আমাদের শক্তিশালী সেনারা ও যুবকরা পাশ্চাত্যের
নানা অবরোধ সত্ত্বেও নৌবাহিনীর অত্যাধুনিক সাজ-সরঞ্জাম বা প্রতিরক্ষা
সামগ্রী নির্মাণ করছে এবং প্রয়োজনে সেগুলো মেরামতও করছে।



ইরানের নৌবাহিনীর নিজস্ব কারখানায় তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক নৌ-সামগ্রী।
মাত্র এক বছরের মধ্যে গ্বাদির নামের দুটি সাবমেরিনও এই কারখানাতেই নির্মাণ
করা হয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর নিজস্ব কারখানায় তৈরি হচ্ছে হ্যাঙ্গার,
যন্ত্রপাতি সংযোজনকারী যন্ত্র প্রভৃতি। এ কারখানার চমক লাগানো আরেকটি
প্রতিরক্ষা-সরঞ্জাম হ'ল, অত্যন্ত দ্রুত গতি-সম্পন্ন রণতরী। "ববার" বা
"বিশ্বাস" নামের রণতরী প্রতি ঘন্টায় ১৪০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম। এটি
হাল্কা অথচ শক্ত পাতের তৈরি হওয়ায় অগভীর পানিতেও তার দ্রুত গতি অব্যাহত
রাখতে সক্ষম। "বিশ্বাস" নামের ছোট যুদ্ধ-জাহাজ বিভিন্ন ধরনের শক্তিশালী
ক্ষেপনাস্ত্রে সজ্জিত। এইসব ক্ষেপনাস্ত্র আকাশের এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের
উচ্চতায় থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। অত্যন্ত দ্রুত গতি-সম্পন্ন
এই রণতরী চলন্ত অবস্থাতেও শত্রুর লক্ষ্যবস্তু সনাক্ত করে সেখানে
ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। রাডার-সজ্জিত এই জাহাজ মাইন-অপসারক এবং
আবহাওয়ার অবস্থা বুঝতে সক্ষম যন্ত্রপাতিতেও সজ্জিত।



ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধ-জাহাজগুলো অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ।
যেমন, পেইকান নামের জাহাজটি ইরানী বিশেষজ্ঞদের ১৮ মাসের পরিশ্রমের ফসল।
এটিসহ ইরানী বিশেষজ্ঞদের নির্মিত জুশান নামের অন্য একটি জাহাজ নির্মাণে ১৫
টি বিভিন্ন বিভাগের প্রকৌশলীরা অংশ নিয়েছেন এবং ২০ টিরও বেশী প্রাইভেট
কোম্পানী এসব জাহাজ নির্মাণে সহযোগিতা করেছে। এই যুদ্ধ জাহাজগুলো
প্রতিরক্ষার কাজ ছাড়াও কর্মসংস্থানের মত বেসামরিক কাজেও ব্যবহৃত হয়।
ফরাসী যুদ্ধ জাহাজের যে মডেলের ভিত্তিতে জুশান নামের জাহাজটি নির্মাণ করা
হয়েছে, তার কার্যকারীতা ঐ ফরাসী জাহাজের চেয়ে অনেক বেশী। এই যুদ্ধ জাহাজে
১০০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশী পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র মোতায়েন রয়েছে। এ
ছাড়াও জুশান নামের এই যুদ্ধ জাহাজে রয়েছে নৌবাহিনীতে ব্যবহৃত বিশ্বের
সর্বাধুনিক কামান। ইরানী বিশেষজ্ঞরা কয়েক বছরের প্রচেষ্টার পর এখন ব্যাপক
পরিমাণে এই কামান নির্মাণ করছেন। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জনাব
সালেহী জানিয়েছেন, ইরান নিকট ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ ও আধুনিকতম
ডেস্ট্রয়ার এবং সাবমেরিন নির্মাণ করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।



ফজর-২৭ নামের ইরানী নৌবাহিনীর কামান সমুদ্র-পৃষ্ঠের সমান উচ্চতায় ও
আকাশের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ইরানের বিশেষজ্ঞরা ৬ বছর ধরে
গবেষণা চালানোর পর এই কামান তৈরি করতে সক্ষম হন। এই কামান সমুদ্র-পৃষ্ঠের
সমান উচ্চতা ও আকাশের দিক থেকে আসা শত্রুপক্ষের যে কোনো লক্ষ্যবস্তুর
মোকাবেলা করতে সক্ষম। স্বয়ংক্রিয় এই কামানের গোলা নিক্ষেপের ক্ষমতা
অত্যন্ত ব্যাপক এবং এটি ছোটখাট জাহাজেও স্থাপন করা সম্ভব। এর আগে শুধু
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালী এ ধরনের অত্যাধুনিক কামানের প্রযুক্তির
অধিকারী ছিল। ইরান এক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলোর একচেটিয়া কর্তৃত্ব ভেঙ্গে
দিয়েছে। ইরানে এই কামান উৎপাদনের খরচ কম হওয়ায় ভবিষ্যতে তেহরান এ ধরনের
কামান বিদেশেও রপ্তানীর উদ্যোগ নিবে।



ফজর-২৭ নামের ইরানী নৌবাহিনীর কামানের গোলা দুই ধরনের উদ্দেশ্যে
ব্যবহারের উপযোগী। এটাই বিশ্বের একমাত্র কামানের গোলা যা দুই ধরনের কাজে
ব্যবহার করা যায়। প্রথমতঃ এই গোলা শত্রুর যুদ্ধ-জাহাজে আঘাত হানে।
দ্বিতীয়তঃ সমুদ্র-পৃষ্ঠের সমান উচ্চতা থেকে আসা ক্ষেপনাস্ত্রসহ
জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র ও হেলিকপ্টারকেও ঘায়েল করতে সক্ষম এই কামানের
গোলা। এই গোলা ২৩ হাজার ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় থাকা লক্ষ্য বস্তুতে আঘাত
হানতে পারে। দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায়ও স্বয়ংক্রিয় এই কামান কার্যক্ষম এবং
এই অস্ত্রকে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য মাত্র ৪ সেকেন্ড সময় লাগে।



এবারে ইরানের একটি সাবমেরিন বা ডুবো জাহাজ সম্পর্কে কিছু তথ্য তুলে
ধরছি। নাহাঙ্গ বা তিমি নামের এই সাবমেরিন ইরানের নির্মিত প্রথম সাবমেরিন।
ইরানের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের পানির পরিবেশের উপযোগি করে এই সাবমেরিন
নির্মাণ করা হয়েছে। এতে রয়েছে শব্দ ধারণ করার যন্ত্র বা সোনার সিস্টেম। এ
সিস্টেমের মাধ্যমে শত্রু-পক্ষের সাবমেরিন, জাহাজ, নৌকা ও অনান্য অস্ত্র
সনাক্ত করা যায়। এ ছাড়াও পানিতে ভাসমান জাহাজ ও অন্যান্য লক্ষ্যগুলোকে
মোকাবেলা করে এই সাবমেরিন। খুব দ্রুত অভিযান চালাতে সক্ষম তিমি নামের এই
ইরানী সাবমেরিন পানির ভেতরে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে গোলা বা টর্পেডো নিক্ষেপ
করতে পারে। এতে টর্পেডো নিক্ষেপকারী ৪ টি ইউনিট রয়েছে। এ ছাড়াও এ
ডুবোজাহাজ প্রয়োজনে ক্ষেপনাস্ত্র নিক্ষেপ করতে ও মাইন বসাতে সক্ষম। ইরানের
এই সাবমেরিন বা ডুবোজাহাজ রাডারকে ফাঁকি দিতে পারে। নৌ-প্রতিরক্ষা
ক্ষেত্রে ইরান যে কতটা অগ্রগতি অর্জন করেছে এই অত্যাধুনিক ডুবোজাহাজ তারই
অন্যতম দৃষ্টান্ত।



এখন আমরা বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতি সম্পর্কে আলোচনা করবো।

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ইরানের অগ্রগতি সম্পর্কে দেশটির প্রতিরক্ষা
মন্ত্রী মোস্তফা মোহাম্মাদ নাজ্জারের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে শুরু করছি
আজকের মূল আলোচনা। তিনি বলেছেন, " ইসলামী বিপ্লবের তিন দশক পর প্রতিরক্ষা
শিল্পের সব ক্ষেত্রে ইরান এখন অত্যন্ত ভালো ও বিকাশমান পর্যায়ে রয়েছে।
ইরান এখন প্রতিরক্ষা সামগ্রীর ক্ষেত্রে স্বনির্ভর।"

ইসলামী বিপ্লবের পরে বিমান প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও ইরানের অগ্রগতি
অবিশ্বাস্য বা অসাধারণ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং দিনকে দিন এক্ষেত্রে
এগিয়ে চলছে ঝড়ের গতিতে। এ বিষয়টি যে বাস্তব তা বিমান প্রতিরক্ষা
ক্ষেত্রের কোনো কোনো পশ্চিমা বিশেষজ্ঞও স্বীকার করেছেন। যেমন, এ প্রসঙ্গে
অস্ট্রিয়ার খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ টম কুপার বলেছেন, পশ্চিমা সামরিক
বিশেষজ্ঞরা ইরানের বিমান বাহিনীর ক্ষমতা সম্পর্কে যতটা ধারণা করেন, বাস্তবে
ইরানের বিমান বাহিনী তার চেয়েও অনেক বেশী শক্তিশালী। পাশ্চাত্যের অধিকাংশ
বিশেষজ্ঞ ইরানের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা সম্পর্কে গবেষণা করছেন ২০ বছর আগের
তথ্যের ভিত্তিতে। তাই এ সম্পর্কে তাদের মতামতগুলো অলীক ও অবাস্তব। কিন্তু
বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, ইরানের বিমান
বাহিনীর সদস্যরা অনেক উঁচু মানের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অধিকারী।



ইরানের বিমান বাহিনী এখন অত্যাধুনিক জঙ্গী বিমান , বিমান বিধ্বংসী
ব্যবস্থা, টার্গেট বা লক্ষ্য খুঁজে নিতে সক্ষম ক্ষেপনাস্ত্র, বিভিন্ন ধরনের
হেলিকপ্টার এবং বিভিন্ন ধরনের গাইডেড বোমাসহ অন্য অনেক সামরিক সাজ-সরঞ্জাম
নির্মাণ করছে। ইরানের বিমান বাহিনীর প্রধান জনাব আহমদ মিকানী ইরানে
স্টিলথ, মিরাজ ও অ্যাওয়াক্সসহ বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক জঙ্গী বিমান থাকার
কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ইসলামী বিপ্লবের সুবাদে ইরানের বিমান বাহিনী খুব
সাধারণ একটি সেনা ইউনিট থেকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বা স্বনির্ভর বাহিনীতে
পরিণত হয়েছে। এই বাহিনী তার চাহিদাগুলোর পূরণের জন্য এখন আর বিদেশ-নির্ভর
নয়। ইরানের বিমান বাহিনী এখন বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র নির্মাণ করছে এবং
দিনকে দিন এসব ক্ষেপনাস্ত্রের মান উন্নততর করছে। ইরানের বিশেষজ্ঞরা
নির্মাণ করছেন এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার রাডার । এ ছাড়াও ইরানের বিমান
বাহিনী এখন সিগন্যাল-ডাটা সংগ্রহের যন্ত্র, দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ও
গাইডেড ক্ষেপনাস্ত্রও তৈরি করছে।



বর্তমানে ইরানে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গী ও বোমারু বিমান নির্মিত হচ্ছে।
শাফাক্ব বা সন্ধ্যার লালিমা নামের জঙ্গী বিমান সামরিক বিমান নির্মাণ শিল্পে
ইরানের অগ্রগতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্বের খ্যাতনামা বিমান-বিশেষজ্ঞ
এবং বিমান সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ও ম্যাগাজিন এই জঙ্গী বিমানের ভূয়সী
প্রশংসা করেছে।



রুইন ডিফেন্স নামের ওয়েব সাইট জানিয়েছে, ইরানের শাফাক্ব বা সন্ধ্যার
লালিমা নামের জঙ্গী বিমানের মহড়া সবাইকে বিস্মিত করেছে। এই সামরিক বিমানে
রয়েছে আর. ডি-৩৩ সিস্টেম। এর বডি এবং মটরে বাতাস প্রবেশের স্থানগুলো
এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে যে রাডার বা অন্য কোনো যন্ত্র দিয়ে এটিকে
সনাক্ত করা সম্ভব হয় না। শাফাক্ব নামের এই জঙ্গী বিমান গাইডেড লেসার
বোমাসহ নানা ধরনের বোমা এবং আকাশ থেকে আকাশে ও আকাশ থেকে ভূমিতে
নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপনাস্ত্র বহন করতে সক্ষম।



সয়েক্বে বা বজ্র নামের জঙ্গী বিমান নির্মাণ ইরানের বিমান বাহিনীর
অগ্রগতির আরো এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইরান গত বছর এই অত্যাধুনিক জঙ্গী
বিমানটির নির্মাণ শুরু করে। চলতি বছরেও ইরান এই বিমানটির নতুন প্রজন্ম বা
আধুনিকতর সংস্করণ নির্মাণ করেছে। এতে রয়েছে আরো বেশী ক্ষমতা ও বিভিন্ন
নতুন সিস্টেম। ইরান শিগগিরই ব্যাপক মাত্রায় সয়েক্বে বা বজ্র নামের এই
জঙ্গী বিমানের নতুন প্রজন্মের উৎপাদন শুরু করবে।





ইরানী বিশেষজ্ঞরা ৩৫ মিলিমিটারের কামান, রাডার-সিস্টেম, চাপ দেয়া
ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সিস্টেম এবং বিমান, স্থল ও জলপথে
ব্যবহার-উপযোগী ইলেকট্রনিক রাডার-সজ্জিত কামান নির্মাণ করছেন। কম উচ্চতায়
ব্যবহারের উপযোগী বিমান-বিধ্বংসী কামান নির্মাণও ইরানের বিমান সেনাদের
অব্যাহত অগ্রযাত্রার অন্যতম দৃষ্টান্ত। গত (২০০৯) ফেব্রুয়ারী মাসে ইরান
১০০ মিলিমিটারের বিমান-বিধ্বংসী স্মার্ট বা চৌকস কামান উৎপাদনের কাজ শুরু
করে। এই কামানের সাথে রয়েছে অত্যন্ত উন্নত মানের রাডার। এই কামান
স্বয়ংক্রিয়ভাবে শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতের আঘাত হানতে সক্ষম। এই কামানের
মধ্যে এমন ব্যবস্থা রয়েছে যে এর গোলাগুলো সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে
না পারলেও লক্ষ্যবস্তুর আশ-পাশে বোমার বিভিন্ন অংশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে
বিস্ফোরিত হয় বলে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস হয়ে যায়। ইরানের ১০০ মিলিমিটারের
বিমান-বিধ্বংসী চৌকস কামান ক্রুজ ক্ষেপনাস্ত্রও ধ্বংস করতে সক্ষম।



এবারে আমরা স্মরণ করবো ইরানের একজন খ্যাতনামা পাইলটকে। ইরানের এই
বিশিষ্ট পাইলট হলেন শহীদ সাত্তারী। তিনি নির্মাণ করেছিলেন পারাস্তু নামের
প্রশিক্ষণ বিমান। অযারখেশ নামের জঙ্গী বিমান নির্মাণও ছিল তার অন্যতম
অবদান। শহীদ সাত্তারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন পাইলট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং
মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এই বিশিষ্ট পাইলট ১৯৯৪
সালে এক বিমান দূর্ঘটনায় শাহাদত বরণ করেন। শহীদ হলেও তার স্মৃতি এখনও
অম্লান এবং তার নাম চিরকাল বেঁচে থাকবে অনেক অমর অবদান ও কীর্তির মাঝে ।







বিশ্বের অনেকেই হয়তো জানে না যে, ইসলামী ইরান বিপুল মাত্রায় জঙ্গী
বিমান ও হেলিকপ্টারসহ অত্যাধুনিক বিভিন্ন সমরাস্ত্র উৎপাদন করছে এবং এসব
অস্ত্র উৎপাদনের দিক থেকে ইরান এ অঞ্চলে সবার শীর্ষে রয়েছে। সামরিক
বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্যাধুনিক অস্ত্র নির্মাণে ইরানের অগ্রগতির কারণে দেশটি
এখন বিশ্বের ৫০ টি দেশে অস্ত্র রপ্তানী করছে।



ইরানের বিমান শিল্পের বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্যিক ও সামরিক
বিমানের মডেল ও পরিকল্পনার বিষয়ে গবেষণা করছেন। এই বিশেষজ্ঞরা ইরানের
সশস্ত্র বাহিনীর বিমান ও হেলিকপ্টাগুলো মেরামতও করছেন। ইরানের ফাজর নামের
হ্যাঙ্গার মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় হ্যাঙ্গারে যেখানে ধাতব যন্ত্রপাতি
সংযোজন ও মেরামত করা যায়। এই হ্যাঙ্গারে একই সময়ে বিশাল আকৃতির ৮ থেকে ১২
টি বিমানের স্থান সংকুলান করা সম্ভব।



ইরান পাইলটবিহীন বিভিন্ন ধরনের বিমান নির্মাণ করছে। এ ধরনের কয়েকটি
বিমানের নাম হল আবাবিল, মোহাজের এক, মোহাজের-দুই, মোহাজের-তিন ও চার এবং
হুদহুদ। এ বিমানগুলো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ। মোহাজের এক, দুই, তিন ও
চার নামের বিমানগুলো প্রহরা, চিহ্নিতকরণ, লক্ষ্য নির্ধারণ, মাদক চোরাকারবার
দমনের জন্য সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, শহরের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং ভৌগলিক
ম্যাপ তৈরির জন্য ছবি তোলার মত বিচিত্রময় কাজে ব্যবহার করা হয়।
পাইলটবিহীন এই বিমানগুলো ছোট-খাট অস্ত্র বহন ও নিক্ষেপ করতেও সক্ষম। আবাবিল
নামের ইরানের পাইলটবিহীন এই বিমান কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে চারদিকে
৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় অভিযান চালাতে সক্ষম। এ ধরনের বিমান হাল্কা
হওয়ায় যেসব স্থানে কোনো বাধা নেই সেসব স্থানে গতিবেগ অপরিবর্তিত রেখেই
উপরের দিকে উঠতে সক্ষম। এমনকি এর মটর বন্ধ থাকলেও তা এক স্থান থেকে অন্য
স্থানে উড়ে যেতে পারে এবং ঐ অবস্থায় ওপর ও নীচের দিকে যেতে পারে বা
উঠ-নামা করতে পারে।



ইরান বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টার নির্মাণেও ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে।
হেলিকপ্টার নির্মাণের ক্ষেত্রে যন্ত্রাংশ নির্মাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানে ইসলামী বিপ্লবের আগে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয় নি। ইরানের
পাহনা নামের একটি প্রকৌশল কোম্পানী বিভিন্ন ধরনের হেলিকপ্টারের যন্ত্রাংশ
নির্মাণ করছে এবং শাবাভিজ বা বাদুড় নামের হেলিকপ্টার, টু-জিরো-নাইন-ওয়ান ও
শাহেদ নামের হেলিকপ্টার নির্মাণ করছে।



ইরান শাহেদ নামের হেলিকপ্টার নির্মাণ করছে দশ বছর ধরে। টু- সেভেন-এইট
মডেলের শাহেদ নামের হেলিকপ্টার কয়েক ধরনের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায়।
শাহেদ টু এইট ফাইভ নামের হেলিকপ্টার পানিতে ও আকাশে ব্যবহার উপযোগী।
পুরোপুরি এয়ারোডাইনামিক এই হেলিকপ্টার অসাধারণ ক্ষমতা-সম্পন্ন। এটি
সাঁজোয়া যান ও যুদ্ধ-জাহাজ বিধ্বংসী রকেটসহ বিভিন্ন ধরনের কামান বা
ক্ষেপনাস্ত্র বহন করতে পারে।



ইরানের বিজ্ঞানীরা ২০৬ নামের একটি কৃত্রিম হেলিকপ্টার নির্মাণ করছেন
যা দিয়ে হেলিকপ্টারের সমস্ত কাজ করা ও প্রশিক্ষণ নেয়া সম্ভব। আগামী কয়েক
মাসের মধ্যেই এই কৃত্রিম হেলিকপ্টার বাজারে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইরানের বিজ্ঞানীরা পাইলটবিহীন হেলিকপ্টার ও ছোট ছোট কৃত্রিম বার্ডও
নির্মাণ করছেন। শাহীন নামের পাইলটবিহীন হেলিকপ্টার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ,
পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূর্গম এলাকায় সাজ-সরঞ্জাম বা মালামাল পৌঁছানোর মত কাজ
করে। ইরানে নির্মিত এ ধরনের পাইলটবিহীন হেলিকপ্টারের মধ্যে শাহীন নামের
পাইলটবিহীন হেলিকপ্টার অত্যন্ত ছোট আকৃতির এবং এর গতি ঘন্টায় প্রায় ১১০
কিলোমিটার। এই হেলিকপ্টার পাইলটদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজেও ব্যবহার করার
জন্য খুব উপযোগী।



ইরানের বিজ্ঞানীরা পলিমার জাতীয় পদার্থ ব্যবহার করে হেলিকপ্টারের
জানালার কাঁচ নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ইস্ফাহানের বিমান
শিল্প-স্থাপনায় শিনুক টু জিরো সিক্স, জেট রেঞ্জার ২১৪, ইস্ফাহান
হেলিকপ্টার এবং ২০৫ মডেলের হেলিকপ্টারের জানালার কাঁচ নির্মাণ করা হচ্ছে।
তাই এক্ষেত্রে ইরান এখন স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে এবং ইরান এখন
অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও এসব কাঁচ রপ্তানী করতে সক্ষম। এসব কাঁচ
সর্বসাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি করা হচ্ছে।
ইস্ফাহানের বিমান শিল্প-স্থাপনায় এ পর্যন্ত বিভিন্ন হেলিকপ্টারের জানালার
১২০০ পিস কাঁচ নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও এখানে বিভিন্ন হেলিকপ্টারের
চাকার শত শত যন্ত্রাংশ এবং হেলিকপ্টার মেরামতের জন্য জরুরী হাজার হাজার
ধাতব যন্ত্রাংশ উৎপাদিত হচ্ছে।



ইরানের বিজ্ঞানীরা এখন ইস্ফাহানের বিমান শিল্প-স্থাপনায় হেলিকপ্টারের
টেস্টারও নির্মাণ করছেন। এই টেস্টার বা সতর্ককারী যন্ত্র হেলিকপ্টারের
প্রপেলার ও মটরের অবস্থা তুলে ধরে এবং হেলিকপ্টারের দুই মটর ও প্রপেলারে
কোনো সমস্যা দেখা দিলে এই টেস্টার পাইলটকে সতর্ক সংকেত দেয়। ইরান অতীতে এই
যন্ত্র বা সিস্টেম বিদেশ থেকে আমদানী করতো। কিন্তু ইরানের বিজ্ঞানীরা এখন
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০৫, ২১৪, কোবরা ও শিনুক জাতীয় হেলিকপ্টারের
টেস্টার নির্মাণ করছেন।



এখন আমরা ইরানের অগ্রগতির প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে
সক্ষম হয়েছেন এমন কয়েকজন উদ্ভাবকের পরিচয় তুলে ধরবো। ডক্টর নাদেরে
গুলশান ইব্রাহীমী ইরানের একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। জাপানের কিয়েটো
বিশ্ববিদ্যালয়ে পলিমার বিষয়ক গবেষণায় ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করার পর তিনি
দেশ-সেবার অদম্য বাসনা নিয়ে ইরানে ফিরে আসেন। আবিস্কার বা উদ্ভাবনার
মাধ্যমে দেশের উন্নতি ও অগ্রগতি সাধন ছিল তার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। দেশে
ফিরে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় তিনি গবেষণার ক্ষেত্রে বাধাগুলো
দূর করার এবং ছাত্রদের সাফল্যের জন্য একটি সেতু-বন্ধন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত
নেন। বর্তমানে তিনি একটি ছোট গবেষণাগারে অনেক বড় বড় ও গুরুত্বপূর্ণ
গবেষণা-প্রকল্প পরিচালনা করছেন।



ডক্টর নাদেরে গুলশান ইব্রাহীমী পলিমার জাতীয় পদার্থ দিয়ে
অস্ত্রপচারের সূতা তৈরি করতে সফল হয়েছেন। এ ধরনের সূতা অস্ত্রপচারের পর
খুব দ্রুত শরীরে মিশে যায়। পলি ভিনাইল ক্লোরাইড বা পি ভি সি জাতীয় পদার্থ
ব্যবহার করে রক্ত রাখার বিকল্প ব্যাগ তৈরি ইরানের এই মহিলা বিজ্ঞানীর
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন। যেসব রোগীকে প্রায়ই রক্ত নেয়ার জন্য রক্ত
রাখার ব্যাগ ব্যবহার করতে হয়, তারা যাতে ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত না হন সে
জন্য রক্ত রাখার বিকল্প এই ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাগে ব্যবহৃত পি
ভি সি ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। পলিমারের অপটিক্যাল ফাইবার ও প্রলেপযুক্ত
স্ট্যান্ট তৈরি ডক্টর নাদেরে গুলশানের অন্য দুটি বড় আবিস্কা

mahdi briged
আমি নতুন
আমি নতুন

পোষ্ট : 12
রেপুটেশন : 0
নিবন্ধন তারিখ : 15/04/2011

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum