Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সহকর্মীদের বৈশিষ্ট্য

View previous topic View next topic Go down

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সহকর্মীদের বৈশিষ্ট্য

Post by Admin on 2013-08-04, 21:25

একজন মেষজাতক চাকরি সন্ধানকারীর সাক্ষাৎকারটা অনেকটা নিচের মতোই হবে:

চাকরিদাতা: জনাব মোখলেছ, আপনার রিসিউম আর রেফারেন্স থেকে এটাই পরিষ্কার হয় যে গত দুই বছরে আপনি ছয়বার চাকরি ছেড়েছেন আর ধরেছেন, নয় কি? চাকরি সন্ধানকারী মেষ: আমাকে বরং অর্নব বলুন জনাব আবুল। আপনি ঠিকই বলছেন। আমি আমার উন্নতিতে বিশ্বাস করি। আপনি যদি আপনার কাজের থেকে বেশি অগ্রসর হয়ে যান আর ঐ পদে শিখবার মতো আপনার জন্য কিছুই না থাকে আর আপনিও যদি কোম্পানিকে কিছু দিতে না পারেন তো সেখানে ঝুলে থাকবার কি মানে?

চাকরিদাতা: আর এটাই আমাকে আঘাত দেয়। সে যাই হোক, জনাব মোখলেছ, আমি ভীত যে যখন আমরা আপনাকে ট্রেনিং দিয়ে শিখিয়ে পড়িয়ে নেব ততদিনে আপনি হয়তো আমাদের প্রতিষ্ঠানের কাজকেও খুব অল্পতেই ছাড়িয়ে যাবেন।

চাকরি সন্ধানকারী মেষ: আমি বুঝেছিলাম এটা আপনাকে ভাবাবে। কিন্তু আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না। আমি আপনার কোম্পানিটা পর্যবেক্ষণ করেছি আর বুঝতে পেরেছি এখানে আমার অস্খিরতা থাকবে না, কেননা আমি দেখছি যে যারা সত্যই চেষ্টা করতে আগ্রহী তাদের জন্য আপনার এখানে প্রচুর সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমি সবসময়ই চেয়েছি সত্যিকার অর্থেই শ্রেষ্ঠ, সৃষ্টিশীল আর অগ্রগতিশীল একটা ব্যবস্খাপনার হয়ে কাজ করতে। আর এরকম ব্যবস্খাপনা এতই দুর্লভ যে অন্য কোথাও চাকরি না খুজে আমি বরং এখানেই কোন পোস্ট খালি হবার জন্য অপেক্ষা করবো।

বলা বাহুল্য যে এরকম একটা অস্বাভাবিক সাক্ষাৎকারের ধাক্কাটা যে বস্ সামলে নিতে পারে সে নির্দ্বিধায় স্পটেই মেষজাতকটিকে চাকরি দিয়ে দেবে। সাক্ষাৎকারে যে ধরনের দায়িত্ববোধ এবং সততার আভাষ ফুটে ওঠে সেরকমটা আজকাল নিরাপত্তা সন্ধানী আর ইউনিয়ন-সচেতন কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে পাওয়া বিরল - আর তাদের ভারসাম্যহীন আচরণ আর অতি আত্মগরিমার কথা না হয় বাদই দিন।

একজন মেষজাতককে চাকরি দেয়া আপনার জন্য সবচে স্মার্ট পদক্ষেপ নেয়া বলে যেমন বিবেচনা করা যায়। তেমনি সবচে বড় মাথাব্যথার কারণ হিসেবে আশংকাও করা যায়। আর সেটা নির্ভর করে আপনি এই জ্বলন্ত আর ভুল পথে চালিত মিসাইলটাকে কীভাবে সামলাবেন বলে ভাবছেন তার উপর। তাকে ৯টা ৫টা অফিস সময় বেধে দেয়াটা হবে বোকামী। প্রথমদিকে সে হয়তো পাঁচশ টাকার কড়কড়ে নোটের মতো ঝলমলিয়ে উঠে আপনার মনে দাগ কাটবে। দেরি করে অফিসে আসবার মাধ্যমে, লাঞ্চে অতিরিক্ত সময় নেবার মাধ্যমে কিংবা তার ডেস্কে ব্যক্তিগত চিঠি লিখবার মাধ্যমে আপনাকে সে নিশ্চিত বুঝিয়ে দেবে তার অতৃপ্তির কথা। আর এগুলো তার অতৃপ্তির নিদর্শনমাত্র। সে এখনও আপনার ফার্মের জন্য অতীব মূল্যবান কিন্তু সে ইতিমধ্যে বিরক্ত, আর যখন মেষেরা বিরক্ত হয়ে পড়ে তখন তাদের গুণগুলো তাদেরই সীমাবদ্ধতার নিচে ঢাকা পড়ে যায়।

আপনার মেষজাতক কর্মকর্তাটিকে এমন একটা পদ দিন যে পদে সে একাই যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম আর প্রয়োজনে জবাবদিহি করতেও বাধ্য থাকবে, তবে তা কেবল আপনার কাছেই। অফিসের নৈতিকতা ভঙ্গ না করে যদি সম্ভব হয় তো তার জন্য দেরি করে অফিসে আসাটাকে বৈধ করে দিন। কিছুদিনের মধ্যেই আপনি দেখবেন যে, যদিও সে সকাল ১০টা, ১১টার আগে অফিসে আসে না আর লাঞ্চে ২ঘন্টা সময় নষ্ট করে। কিন্তু সেই সবার শেষে রাতে অফিস ত্যাগ করে আর যদি অতিরিক্ত কোন কাজ থেকে যায় তাহলে তো কথাই নেই সেটাও শেষ করে তবেই সে বিদায় নেয়। আপনার অন্যান্য যে কোন কর্মচারীর থেকে কোন অভিযোগ ছাড়াই বাড়তি কাজের ভার গ্রহণ করার সম্ভবনা তার ক্ষেত্রেই বেশি।

অনেক মেষজাতকই প্রয়োজনের খাতিরে, কিংবা যদি একটা চমৎকার প্রকল্প হাতে থাকে, তো অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করবে। সকালবেলার সুইচবোর্ড রিসেপশনিস্টদের সাথে এদের দেখা কমই হয় বরং রাতে যে মহিলারা অফিস পরিষ্কার করে তারাই এদের বেশি চেনে। তাকে আপনি কখনই অফিস ত্যাগ করবার ব্যাপারে ব্যাকুল হতে দেখবেন না, সে কখনই বিকেল ৫টার দিকে ঘড়ির দিকে তাকাবে না, তাহলে আপনিই বা কোন দু:খে সকাল দশটা বেজে বিশ মিনিটেও যখন তার পায়ের ধুলো অফিসে পড়লো না তখন অযথাই ব্যাস্ত হয়ে পড়বেন? এটাই হলো তার চিন্তাধারা, আর এটা নিশ্চয়ই সঙ্গত।

অফিসের স্বাভাবিক নিয়মকানুন যাই হোক না কেন গঠনতান্ত্রিকভাবে একজন মেষজাতকের পক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে অফিসে আসা এবং অফিস ত্যাগ করা সম্ভব নয়। তার উন্নত সৃষ্টিশীল চিন্তা ভাবনাগুলো সব সময়ই তার মধ্যে কাজ করে যাচ্ছে, অফিসে আসা যাওয়ার নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সেগুলোকে তো আর নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। হয়তো কিছু বিকেলে জরুরি ব্যক্তিগত কাজের জন্যে সে তাড়াতাড়ি ছুটি চাইবে, কিন্তু ঠিকই সে আবার ঐ দিনই রাতে ফিরে এসে মাঝরাত কিংবা প্রয়োজনে পাখি ডাকা ভোর পর্যন্ত যে কাজগুলো সে জমিয়ে রেখেছিল সেগুলো শেষ করে ফেলবে। মেষেরা নিজের কাছে পারফেক্ট না মনে হওয়া পর্যন্ত কোন কাজ করে শান্তি পায়না। বিষাদ নিয়ে তার অসাবধানতা, আবার অফিসের নিয়মকানুনের প্রতি বেপরোয়া ভাব এসব থাকা সত্ত্বেও একটা ব্যাপার নিশ্চিত যে তার কাজের মান চমৎকার, আর এটাকে অবহেলাও করা যায় না। মঙ্গল জাতক জাতিকাদের তাদের নিজস্ব আত্মনির্ভরশীলতার উপর ছেড়ে দিন, সে তার ভেতরের চমৎকার সংকল্পের গুণে ঠিকই সফলতা অর্জন করে নেবে আর ফলত সেটা আপনার কোম্পানিরও উপকারে আসবে। আপনি যদি যথেষ্ট বিচক্ষণতা আর ধৈর্যের পরিচয় দেন তবেই অবশ্য এটা সম্ভব।

টাকা পয়সাটা তার চাকরি করবার পেছনে মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। যেটুকু তার আত্মসম্মান এবং অবস্খার সাথে সামঞ্জ্যস্য রেখে পাওয়া উচিত (এক্ষেত্রে তার নিজস্ব ধারণাটাই মুখ্য) বলে সে মনে করে ততটুকুই সে দাবি করে। কিন্তু টাকা পয়সা কখনই তার প্রধান লক্ষ্য নয়। সে প্রথমত সাফল্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত তারপর আসে তার টাকার চিন্তা। সে হয়তো প্রায়ই টাকা ধার চাইবে কেননা মেষজাতকেরা তাদের আয়ের থেকে ব্যয় বেশি করে থাকে। তারপরও তার পিঠে বাহবার একটা আলতো চাপড় বরং প্রতি মাসে খামের ভেতর অতিরিক্ত এক হাজার টাকার চেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করবে। অবশ্য আপনাকে হয়তো সবার বিভাগেই হস্তক্ষেপ করবার তার যে জন্মগত আকাáক্ষা রয়েছে সেটাকে শান্ত করে রাখতে হবে। কেননা সে প্রায়শই আপনারা যেখানে পৌছতে চান সেখানে কীকরে আরও দ্রুত এবং সফলভাবে পৌছে যেতে পারেন সেটার বিভিন্ন জ্বলজ্বলে পদ্ধতি নিয়ে উৎপাত শুরু করবে। কিন্তু আপনি যদি তার এইসব মুহুর্মুহু চিন্তাভাবনার অবিনয়ী প্রকাশটাকে সহজভাবে নিতে শেখেন তাহলে বোনাস হিসেবে তার কিছু মৌলিক আর লাভজনক পরিকল্পনাও পেয়ে যাবেন।

মেষজাতককে সবসময় প্রচুর কাজের সুযোগ রয়েছে এমন পদে বহাল করুন, যেখানে সে তার প্রতিভাকে কাজে লাগাতে পারবে। আর আপনার প্রতিষ্ঠানেরও উন্নতিতে সহায়ক হবে আর অনেক মানুষের সাথে মেলা মেশা করতে পারবে। তাকে কখনই এমন পদে দেবেন না যেখানে অন্য একজন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে দিনের পর দিন তাকে একই রকম কাজ করতে হবে। মেষেরা খুব কম মানুষের কাছ থেকেই আদেশ নিতে অভ্যস্ত, কেননা তার চিন্তায় শুধু অল্প কিছু মানুষই হয়তো শ্রেষ্ঠত্বের দিক থেকে তার সমকক্ষ কিংবা তার উপরে। সে নিশ্চিতভাবে আপনাকে তার নিজের থেকে বড় মনে করে নয়তো প্রথমেই সে আপনার কাছ থেকে সরে যেতো। একবার যদি সে বুঝতে পারে যে আপনি তার চেষ্টা এবং প্রতিভাকে বুঝতে পারছেন তো সেই হবে আপনার কর্মকর্তাদের মধ্যে সবচে বিশ্বস্ত, কর্মোদ্যমী এবং দক্ষ একজন। কিন্তু তাকে কোন একটা নিচু পদে নিযুক্ত করলে সে খুবই অদক্ষ, কাজে অমনোযগী আর অনিচ্ছুক হয়ে উঠবে।

সাধারণত সে সবচে উচু পদটা থেকে তার ক্যারিয়ার শুরু করবে এমন হয়ে ওঠে না, যদিও সেটা হলেই সে স্বস্তি পেত। যদি তাকে কোন একটা নতুন বাণিজ্য কিংবা বৃত্তি শিখবার জন্যে সবচে নীচ পদ থেকেই শুরু করতে হয় তবে তার কাজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয় এমন দায়িত্ব দিয়ে দিন - এতে করে সে নিজে ভাববে যে সে সবচে উঁচু পদটাতেই আছে। তাছাড়া এটা তাকে তার নিজের সাথে বিতর্কের থেকে মুক্ত রাখবে। তার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চটা বের করে আনতে চাইলে তাকে বোঝাতে হবে তার পদটা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে দিয়ে সম্ভব নয়। মেষ জাতকেরা জন্মগতভাবেই যেন অগ্রগতির বাহক। আপনার ব্যবসার কথা সে তার স্ত্রী, বন্ধুবান্ধবের কাছে খুবই উৎসাহের সাথে বলে বেড়াবে, এমনকি ট্যাক্সি ড্রাইভার, বেয়ারা কিংবা যেই তার কথা শুনবে তাকেই বলে বেড়াবে - সেটা সুইমিং পুলেই হোক, কি সিনেমা হলে হোক সবখানেই তার ঐ ব্যাপারে কথা বলতে হবে, শুধু যেটুকু সময়ের জন্য সে মাইনে পায় সেটুকু সময়ের মধ্যেই এসব সীমাবদ্ধ নয়। সে তার যে ইন্সুরেন্সের দালাল থেকে শুরু করে সবাইকেই তার ফার্মটার জন্যে প্রশংসা করিয়ে ছাড়বে এবং সুনাম করবার প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছাড়বে। শুধু অল্প কিছু মানুষই (সিংহরাশির জাতকেরা ব্যতীত) মেষের মতো নতুন এ্যাকাউন্ট, সেভিং কাস্টমার যারা আর কখনই ফিরে আসবে না বলে ভেবে নিয়ে ছিলেন, ঠিকই সফলভাবে নিয়ে আসতে পারে, আর সবচে উচ্চাভিলাষী আর বড় রকমের স্কীম যা আপনি চালু করতে সক্ষম সেটার সফল প্রয়োগ সেই করতে পারবে যদি সে ভাবে যে আপনি তার উপর সততই এসব ব্যপারে নির্ভরশীল।

কখনও যদি আপনার প্রতিষ্ঠানটি চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়ে, তো আপনার মেষ জাতক কর্মকর্তাটি ডুবন্ত জাহাজটা ছেড়ে পালাবার কাজটি করবে না। সে আপনার দু:সময়ে আপনার সাথেই লেগে থাকবে এবং এই সমস্যা থেকে উতরে উঠবার কিছু নিজস্ব পরিকল্পনাও আপনাকে সে দেবে। আক্ষরিক অর্থে মেষ জাতকেরা কি তারা নিজেরা কিংবা তারা যাদের সাথে যুক্ত তারা কোন কিছুতে ব্যর্থ হতে পারে সেটা কল্পনাতেও ভাবতে পারে না। এধরনের স্বভাব যে কোন অশুভ দিনে খুবই স্বাগত হয়ে ওঠে তাতে সন্দেহের অবকাশ নেই।

এই কর্মকর্তাটিকে সপ্তাহশেষে, কিংবা ছুটির দিনে কাজ করতে বলুন, কিংবা তার প্রতিষ্ঠানের দু:সময়ে বেতন কিছু কম নিতে বলুন, কিংবা অসুস্খ কিংবা ছুটিতে থাকার দরুণ অন্য একজনের কাজ তাকে করতে বলুন সে খুব কম ক্ষেত্রেই অভিযোগ করবে সেটা করতে। তবে তাকে উষäভাবে ধন্যবাদ দিন আর বলুন যে আপনি তার এই অবদান খুবই আন্তরিকতার সাথে বিবেচনা করেন। তেমন কাজ খুব কমই আছে যা সে আপনার উচ্ছসিত প্রশংসা সত্ত্বেও করতে নারাজ। তার কাজের প্রশংসা অন্য কাউকে আবার করবেন না। কখনও তাকে দেরি করে অফিসে আসবার ব্যাপারে দোষী সাব্যস্ত করবেন না। আর সে আশেপাশে থাকলে অন্য কাউকে ঘন ঘন প্রশংসা করবেন না, আর তার ভুল হলে উত্তেজিত হবেন না, বিশেষ করে অন্যকারোর সমুখে, আর বিশেষকরে এমন একটা ভাব দেখাবেন না যে সে যদি তার জায়গাতেই থাকে তাহলেই ভালো হয়। অন্যথায় সে বিরক্ত, হতাশ আর অলস হয়ে উঠবে। তাকে চাকুরিচ্যুত করবারও প্রয়োজন আপনার নেই। আপনি তাকে বাদ দেবার আগেই হয়তো সে নিজেই চাকরি ছেড়ে দেবে। আর মেষজাতকদেরকে খুব কমই বকা ঝকার প্রয়োজন পড়ে। সে যদি তার তাড়াহুড়ো আর আবেগপ্রবণতার কারণে কোন কিছু ভুল করে বসে এবং সেটা বুঝতে পারে তো সে আগেভাগেই ক্ষমা চেয়ে নেবে আর ভবিষ্যতে যেন এরকম ভুল তার না হয় সে জন্যে পর্যাপ্ত চেষ্টা করবে। যদিও বা সে তার এই চেষ্টায় সাফল্য না পায় কিন্তু তার এই প্রচেষ্টা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। আপনি হয়তো ব্যক্তিগতভাবে এবং কৌশলে তাকে বোঝাতে পারেন যে তার অতিচাঞ্চল্য আর অতিআত্মবিশ্বাসে কিছুটা লাগাম দেয়া উচিত, কিন্তু তার মনোবল ভাঙ্গবেন না। কিন্তু তার মনোবল ভেঙ্গে ফেললে আপনি ব্যর্থ হবেন, আর আপনার এই পদক্ষেপ তার সেই সজীব আর মূল্যবান ইতিবাচকতার ইতি টেনে আনবে।

যখন আপনি তার প্রতিভার মূল্যায়ন করতে পারবেন, তখন সে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে চাইবে। সমালোচনার উদ্দেশ্য তার উপর কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না। তার স্বজ্ঞা এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দেহ বা আশাগুলো খুব কম সময়েই ভুল প্রমাণিত হয়, তা এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ যারা তাদের মতামত যাই হোক না কেন। বর্তমানকে পরিষ্কারভাবে অনুধাবন এবং এ সংক্রান্ত সঠিক পদক্ষেপ নেবার একটা অদ্ভুত গুণ আছে মেষ জাতকদের মধ্যে যেটা অন্যান্য যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে কিংবা ভবিষ্যতেই তাদের সব আশা পুষে রাখে তাদের পক্ষে খুবই দুর্লভ। তাই তার কথায় কান দেয়াটা বুদ্ধির কাজই বটে, যদিও তার এই গুণের কারণে যখন তখন সে তার বিনয় কিংবা আনুগত্যের বারোটা বাজিয়ে একটা অপ্রীতিকর শব্দপ্রস্তুতকারকে পরিণত হয়।

যত দ্রুত সম্ভব তার বেতন বৃদ্ধি করে কিংবা তার পদোন্নতি করে বুঝিয়ে দিন যে আপনি তার কাজে সন্তুষ্ট এবং সে ভালোই করছে। আর যেভাবে পারেন দ্রুত তাকে এমন জায়গায় দিন যেখানে সে নিজের মতো করে কাজ করতে পারে, কিংবা এমন কোন পদে দিন যেখানে সে অন্যদেরকে নেতৃত্ব দিতে পারে। তাকে ভাবতে দিন যে সে আপনার একান্ত সহযোগী। এটা জরুরি যে একজন মেষজাতক কর্মকর্তা বুঝতে পারে যে তার অবস্খান থেকে কোম্পানিটি প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ কাজ প্রত্যাশা করে, আর সে এই প্রত্যাশা পূরণে তখনই সক্ষম হবে যখন সে বুঝতে পারে যে প্রতিষ্ঠানটিতে তার গুরুত্ব আছে। তার উত্তেজনায় পরিপূর্ণ আর ভাববাদী মনটাকে যদি নিস্প্রভ করে তোলা হয় তো সে খুব দ্রুত তার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে নিরাশ হয়ে যায় আর অন্যদেরকে নিজের নেতৃত্বটা নিয়ে নিতে দেয়, বিষণí আর অতিষ্ট হয়ে ওঠে - নিশ্চয়ই এটা একটা দুর্লভ আর ব্যবহারযোগ্য প্রতিভার অযথা অপচয়। মেষজাতককে প্রবর্তন, সৃষ্টি কিংবা উদ্ভাবন, এসবের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করলে সে অন্যের তো দূরের কথা নিজেই নিজের কোন কাজে আসে না। যুক্তি আর দয়া দুটোই তাকে সবসময় ছুয়ে যাওয়া চাই।

যেহেতু প্রকৃতগতভাবেই মেষ জাতক একজন উদ্ভাবক আর নেতা তাই যেকোন কর্মক্ষেত্রেই সে পারদর্শী। কোন বিশেষ ক্ষেত্রে তার ভালো করবার সম্ভবনা বেশি - একথা মেষজাতকের জন্য প্রযোজ্য নয়। ক্ষেত্রটা যদি হয় পুলিশ স্টেশন, কি গ্রিণহাউস হয়, কিংবা যদি সে অগ্নিনির্বাপক হয়, কিংবা যদি সে সার্জন হয়, কিংবা যাই হোক তাকেই চার্জে থাকতে হবে। বিজ্ঞাপন এবং পাবলিক রিলেশানের ক্ষেত্রদুটি তাকে আকর্ষণ করে, যেহেতু এ দুটো তাকে অগ্রগতির সুযোগটা দেয়, আর বিক্রি করাটা তার কাছে হাসের জলে ভাসবার মতোই সহজ। কিন্তু আপনি তাকে যেকোন বৃত্তিতে বা পেশায় সেটা হোক শিক্ষকতা কিংবা ট্রাক চালানো কিংবা প্রচারের কাজ কিংবা বিল্ডিং তৈরির কাজ - যেটাতেই দিন না কেন সে ঠিকই সেই þöটে বসে যাবে, অবশ্য যদি সে þöটটা হয় তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রাণশক্তি আর আত্মগরীমাকে মেনে নেবার জন্য একটু বড়সড় হয় তবেই।

আপনি যদি কোন শান্ত গোছের এবং গোছানো স্বভাবের মেষজাতককে পেয়ে ভাবেন যে তাকে বশ করা সম্ভব তো ভুল ভাবছেন। এটা সম্ভব শুধু শিশু জ্যাক হর্নারের পক্ষেই, আপনার পক্ষে নয়। তার জায়গাটা হলো সামনে - বর্তমানে, তবু বর্তমানের আধুনিকতাকে ছাড়িয়ে। তার সামর্থ্যকে কাজে লাগাবার ব্যবস্খা করুন তো সে আপনার জন্য প্রচুর টাকা যুগিয়ে দিতে পারবে এবং দ্বন্দ্বহীন, অবিসংবাদিতভাবে আস্খাশীল থাকবে - বিশেষ করে যখন সে আপনার উপর সন্তুষ্ট। আপনি যদি একটু খুজে ফিরে দেখেন তো মেষজাতকের এই গুণগুলো অন্যদের থেকে অর্ধেক দামে
avatar
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 806
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum