Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সন্তানদের বৈশিষ্ট্য

View previous topic View next topic Go down

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সন্তানদের বৈশিষ্ট্য

Post by Admin on 2013-08-04, 21:18

বাবা যখন তার চুরুটটা অন্য কাউকে দিচ্ছেন, তখন আক্রোশে লাল মুখ মেষ শিশুটি তার প্রতি মনোনিবেশের নিমিত্তে চিৎকার করে উঠবে। আপনি তাকে ভুলে কোন সাহসে নার্সের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত হয়ে উঠতে পারেন, আপনি কি ভুলে গেছেন এ এলাকার আসল বস্টা কে? তাকে ট্যাক্সিতে চড়িয়ে বাসায় ফেরার পথে দ্ব্যর্থহীনভাবে সে প্রশ্নের উত্তরটা আপনি পেয়ে যাবেন। আপনার মঙ্গল জাতক শিশুটিই বস্। এ ব্যাপারে আপনার সন্দেহ আছে? আপনার সন্দেহটা সে বড় হতে হতে মুছে যাবে। আপনি যদি তাকে ডাইনিং টেবিলের উঁচু চেয়ারটাতে বেশ কিছুক্ষণের জন্য একা বসিয়ে রাখেন তো সে তার চামচটা ট্রের উপর ছুড়ে ফেলে শব্দ করবে। সে আপনাকে জ্বালাবে কমই আর নিজের প্রিয় খাবারের ব্যাপারে উদারও সে নয়। তার দৃঢ়, শক্ত আর প্রশস্ত কাঁধসম্পন্ন শরীরে সূক্ষ্মুতার একটা হাড়ও নেই। মেষ বাচ্চাটা মুখের ভেতর থেকে সবজিটাকে কামানের গোলার মতো ছুড়ে বাইরে ফেলে দেবে এবং হরলিকসের গামলাটা তার ছোট টাক মাথাটাতে ঘষতে ঘষতে আপনাকে হারে হারে বুঝিয়ে দেবে যে সবজীটা শিশুখাদ্য নয়। মেয়ে মেষ শিশুরাও পুরুষ মেষ শিশুর মতোই সবকিছুই সরাসরি করে। যদিও একটা ছোট নরম মেয়ে বাচ্চার কাছ থেকে এরকম অগ্নিঝড়া সংকল্প আপনি কমই প্রত্যাশা করেন। আমি কি নরম মেয়ে বাচ্চা বলেছি? এপ্রিলের ধাতু হলো লোহা, আর পাথর হলো হিরা, মানুষের জানামতে সবচে শক্ত জিনিসতো এগুলোই।

আপনার শিশুটি নিশ্চিতভাবেই অন্যান্য শিশুদের চে দ্রুত হাঁটবে আর কথাও শুরু করবে আগে। তাকে শাসনে রাখা খুব একটা সহজ কর্ম নয়। মেষ বাচ্চাকে কোন কিছু করতে নিষেধ করবেন তো সে আপনাকে আঙ্গুল তুলে অমান্য করবে। তাকে নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে খুব ছোট বয়স থেকেই নিয়ে আসতে হবে। আর মাথায় কিংবা মুখে যেন চোট না পায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। নম্রভাবে বললে বলতে হয় সে অঘটনঘটনপটিয়সি। ছুরি এবং তীক্ষ কোন জিনিস তার নাগালের বাইরে রাখুন আর আগুন কিংবা গরম পানি থেকে দূরে রাখুন। যদি আশেপাশে কোন গরম কিংবা নিষেধ করা বস্তু আছে এটা আপনার মেষ শিশুর জানা থাকে তো আমি বাজী ধরে বলতে পারি যে সে সেটার মধ্যে তার হাত দেবেই। আপনি ভাবছেন যে এতে করে সে শিখবে যে কাজটা তার ঠিক হয়নি? আপনার মেষশিশু কখনই সেই শিক্ষা নেবে না। বরং সে তার নিজের রেকর্ড ভাঙ্গার চেষ্টাটাই চালাবে। দাঁত উঠবার সময়টাতে জ্বরজারি হয়ে মারাত্মক একটা অবস্খার সৃষ্টি হতে পারে। বাচ্চাটা এই কষ্টের মধ্য দিয়ে অল্প কষ্টেই উতরে উঠবে কিন্তু আপনি পারবেন কি?

তাকে কোন ব্যাপারে আদেশ করলে আপনার শ্বাস তার ভালুক আলিঙ্গনের ভালোবাসায় বন্ধ হয়ে যাবে। মেষ শিশুরা সাধারণত আবেগীভাবে অভিব্যক্তিশীল, অবশ্য যে কিছু সংখ্যক মেষশিশুদের আবেগের প্রাথমিক অভিজ্ঞতাগুলো তাদের উষ হৃদয়টাকে ঠাণ্ডা করে ফেলেছে তাদের কথা এখানে হচ্ছে না। কিছু সংখ্যক বিষণ আর শান্ত মেষ শিশুও আপনি দেখবেন। কিন্তু তাদের শিংগুলোও একই রকম বিপদজনক।

আত্মীয়স্বজনদেরকে বাচ্চা দেখাশুনার অনুরোধ করতেই হলে আগেভাগেই তাদের সাবধান করে নিন। বেচারা মরিয়ম খালা যদিবা সাহস করে আপনার ছুটিতে বাচ্চাটাকে দেখাশুনা করবার দায়িত্বটা নেন তবে ব্যাপার স্যাপার একটু জটিল হয়ে উঠবে - এটা বলা যায়। তিনি হয়তো বাচ্চাটাকে চিনির গামলাতে হাত দিয়ে দুষ্টুমী করবার সময় ধরে ফেললেন আর বিরক্তিতে তার পা সজোরে ফ্লোরে নামিয়ে শব্দ করে বসলেন। আর ভুল যা হবার তাতো হলো। আর এই কাজটা মেষশিশুকে একই সাথে অবাক এবং রাগে উন্মাদ করে তুলবে, সেও তার ছোট ছোট পা দিয়ে ফ্লোরে আঘাত করে হাত তার ক্রোধউন্মত্ত বাক্যটা উপহার দেবে, “মরিয়ম খালা - আর একটা কথাও বলবেন না।” সুতরাং পুরোনো দিনের ধ্যান-ধারণা নিয়ে তাকে শাসন করবার চিন্তাটা বাদ দিন।

যখন হাম, মাম্পস রোগ, জলবসন্ত, আর লাল ফুঁটি ফুঁটি দাগের সাথে জ্বর, আর জীবাণুদেরকে সহজেই পরাস্ত করে (মঙ্গলদের দ্রুত সেরে ওঠার শক্তির কাছে জীবাণুদের কোন সুযোগই নেই) বেড়ে উঠবে তখন আপনার মেষ শিশুটি ধীরে ধীরে তার মেজাজের একটা ছায়া দেখাতে শুরু করবে। আপনি সহজেই লক্ষ্য করবেন যে কোন কিছু তাকে নিষেধ করলে সে অকারণেই ভীষণ রেগে উঠবে, অবশ্য রাগটা দ্রুতই আবার পড়ে যাবে। পর পর কয়েকটা রাগারাগির পর আপনার মেষ ছেলে কিংবা মেয়ে একটা ঝলমলে, উজ্জ্বল আর জয় করে নেবার হাসি আপনাকে ঠিকই উপহার দেবে।

তার খেলনাগুলো সে বেশ মহানুভবতার সাথেই আপনার সাথে, তার খেলার সাথীদের সাথে, পিয়নের সাথে, কিংবা পড়শীর বুলডগটার সাথে, এমনকি গলির বেড়ালটার সাথেও ভাগাভাগি করে খেলবে। কিন্তু তার মহানুভবতা নিমেষেই উধাও হবে যদি এদের কেউ তার কোন একটা কাজে বাধা হয়ে দাড়ায় কিংবা তাকে কোথাও যেতে না দেয়। তারপর সে আতশবাজীর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে।

স্কুলের পড়া করার ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই মেষ শিশুরা অনাগ্রহী আর উদাসীন থাকে, আর তাকে আপনার অন্য অপেক্ষাকৃত বাধ্য মকর, কর্কট, কন্যা কিংবা মীনজাতক সন্তানটির দৃষ্টান্ত দেখিয়েও লাভ হবে না। ( আমি ভেবে নিচ্ছি যে আপনার একাধিক মেষ শিশু নেই, গ্রহ নক্ষত্ররা পিতামাতার ক্ষেত্রে এই কাজটা খুব কমই করে।) একটা মেষ বালক কিংবা বালিকাকে লজ্জা দিয়ে পড়াশুনায় মনোযোগ আনবার চেষ্টা না করে তাকে চ্যালেঞ্জ করুন। সে আপনার চ্যালেঞ্জটাকে লুফে নেবে ঠিক যেমনি ভাবে সে তার ঘরহীন গলির বিড়ালটাকে লুফে নেয় তার কোলে। তাকে শুধু বলেন যে সে হয়তো একটু ধীরগতি, কিংবা অন্য ছাত্র কিংবা ছাত্রীদের মতো মেধাবী নয় কিংবা তাদের থেকে কোন না কোনভাবে নিম্নমানের, কিন্তু তাই বলে আপনি তার উপর অসন্তুষ্ট নন। আপনি তাকে ঠিকই ভালোবাসেন। সর্বনাশ! আপনি ভেবেও পাবেন না যে কত দ্রুত তার বইয়ের পাতা থেকে ধুলোগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় আর সে উঠে পড়ে লেগে যায় আপনার ধারণাটাকে একটা যাচ্ছেতাই কৌতুকে পরিণত করবার জন্য। কেউ তার উপরে থাকবে? সেটা হবে হয়তো কোন দিন, কিংবা রাত।

আপনার এই কৌশলের যাদুটা দেখবার পর তার শিক্ষিকাকে গোপনে আসল রহস্যটার কথা জানিয়ে দিন। সে তার হাঁটু গেড়ে বসে আপনাকে ধন্যবাদ জানাবে। তার ক্লাসে যদি একাধিক মেষ শিশু থাকে তো সে আপনাকে ৫ পাউন্ডের ক্যান্ডির একটা বাক্সও পাঠিয়ে দেবে। কম বয়সী মঙ্গল জাতক, জাতিকারা সহজে কোনকিছুই শিখবার প্রতি আগ্রহী নয়, তাই কৌশলী হন আর যখন তারা পড়াশুনায় মনোযগী হয়ে উঠবে তখন মাঝে মাঝে জ্বলন্ত কয়লাতে অল্প অল্প বাতাস দিতে ভুলবেন না। সব বাবা মা অবশ্য এটা কী করে করতে হবে তা ভেবে পান না। তারা বছরের পর বছর ধরে ভাবতেই থাকেন মাইক আর তার সন্তান কেন এত ভালো আই.কিউর পরিচয় দেয়া স্বত্ত্বেও ক্লাস থ্রিতেই চারবছর পড়ে রইলো। অবশ্য মাইক আর ম্যাগীকে নিয়ে দুশ্চিন্তা করবার অত দরকার তাদের নেই, কেননা এই দুই শিশু যখন বাইরের পৃথিবীতে চলে ফিরে বুঝবে যে সেখানে তাদের থেকে স্মার্ট ছেলে মেয়ে রয়েছে অমনি তারা লোকসান যাওয়া সময়টাকে পুষিয়ে নেবার মতো দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দেবে। দুই একবার তাদের আত্মগরিমায় আঘাত পেলেই হলো, তারা এতই অল্প পরিসরে জ্বলে উঠবে যে কয়েকটা ক্লাস বাদ দিয়ে লাফিয়ে বড় ক্লাসে উঠে পড়বে।

আপনার এপ্রিলে জন্ম নেয়া শিশুটি স্বচ্ছ চিন্তা ভাবনার অধিকারী; সে গল্পকাহিনীর চরিত্রগুলোর মতোই স্বপ্নময় আর আবেগপ্রবণ, কিন্তু একই সাথে সে জানে নিজের পাউরুটিটা টোস্টারে দিয়ে কীভাবে টোস্ট করতে হয়। যদি কোন শিশুর মধ্যে একই সাথে দৃঢ়ভাবে বাস্তববাদী আবার ভাববাদী আর স্বাপ্নিক হবার অসঙ্গতি চোখে পড়ে তো সে মেষ শিশু। সে যেমন শক্ত তেমন সরল; যেমন নম্র তেমন কঠিন। এইসব দ্বান্দিক বৈশিষ্ট্যগুলো মেষ শিশুর স্বভাবে মিশে গেছে। আপনি এটা দেখে বিস্মিত হবেন আর অবাক হবেন। আর এই সারিতে পড়বে আপনার বন্ধু বান্ধবেরা।

মেষ শিশুরা তার খেলার সাথীদের সাথেও নেতৃত্ব পরায়ণ হয়ে উঠবে, সে নতুন খেলা শুরু করবে আর তাদের দল জন্য নতুন নতুন খেলার বুদ্ধি তৈরি করবে। কিন্তু দলের সদস্যরা নিজেরা নিজেদের মতো থাকতে চাবে, আর নয়তো তাদের মাথা দিয়ে ঢুসিয়ে কর্তৃপক্ষের মাথাটা ফাটিয়ে দেবে। তাই আগেভাগেই খুব কড়া কিছু নিয়ম কানুন দিয়ে দিন আপনার মেষটাকে। যে মেষ শিশুটি মান্য করবার শিক্ষাটা তার ছেলেবেলাতে নিতে পারেনা তাকে অনেক কঠিনভাবে তার প্রাপ্ত বয়সে সেই শিক্ষাটা পেতে হয়। মনে রাখবেন যে তার ভেতরে মাখনের মতো নরম হৃদয়টা লুকিয়ে আছে এই ভয়ে যে সেটা প্রকাশিত হলে তাকে কেউ পছন্দ করবে না বা ভালোবাসবে না। আর সে কারণেই তার বাইরের আবরণটা এত শক্ত। তার ঝলমলে স্বপ্নগুলো কিংবা তার অতিউচ্ছ্বসিত স্পৃহায় আঘাত পেলে সে দুচোখ ভিজিয়ে আপনার কাছে ছুটে আসবে। তার হৃদয়টা তখন ভেঙ্গে খানখান। তার রুক্ষ প্রভুত্বপরায়ণতার কারণেই তার ভাববাদ এতো আবেগী আর এতো সহজেই আঘাত পায়। সে অবশ্য তার আশায় পরিপূর্ণ হৃদয়ে বহুবার এরকম আঘাত পাবে জীবনে। আপনি যতটা কল্পনা করতে পারেন তার চে অনেক বেশি প্রতিরোধ তার প্রয়োজন এরকম আঘাতের ক্ষেত্রে।

মেষ শিশুরা ভাবে তাদের দাদীমা হলো পরী আর তার কাছে যাদুর দণ্ড আছে, আবার বড় বড় দৈত্য যাদের হাতের মুঠোতে শহরটাও লুকিয়ে যায় সেসবও আছে তাদের বিশ্বাস। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এই দুই প্রবল শক্তিকে সরল চরিত্র মেষ শিশুরা সবসময় ঠিক ভাবে চিনতে পারে না। যখন তারা আবিষ্কার করে যে পৃথিবীটা আসলে বড় বড় দৈত্য আর মাথামোটা বাস্তববাদী দিয়ে ভরা যারা শুধুই ঐ যাদুদণ্ডটাকে শোচনীয়ভাবে নষ্টই করতে পারে, তখন বড় সড় একটা ধাক্কা খায় শিশুগুলো। কিন্তু তারা আবার জেগে ওঠে, নিজেদেরকে ঝেড়ে ঝুড়ে তরতাজা হয়ে ওঠে আর অনির্দিষ্টভাবে সমুখে আগায়। তারা ঐ ম্লান, কল্পনাশক্তিহীন বুড়ো জগৎটাকে ভালোভাবে শিখিয়ে দেবে আসল শিক্ষাটা কী। অবশ্য অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আসবে এ ক্ষেত্রে কিন্তু ভাববেন না যে আপনার মঙ্গল জাতক শিশুটি এতে পিছিয়ে যাবে, যতবারই লড়াইয়ে পরাজিত হোক না কেন সে আবার জেগে উঠবে নতুন করে লড়বার জন্যে। আপনি যদি অপেক্ষায় থাকেন যে সে ‘বাচাঁও’ বলে চেঁচিয়ে উঠবে, তাহলে আপনাকে দীর্ঘ সময় প্রতীক্ষা করতে হবে।

তার জন্মদিনের উপহারগুলি গোপন কোথাও লুকিয়ে রাখুন। সে ধৈর্যহীন হয়ে উঠবে, উপহারে অবাক হবার জন্য অত ধৈর্য্য তার সইবে না। সান্টা ক্লজ আর ইস্টারের খরগোশের উপরে তার যে বিশ্বাস আছে সেটা খুব দ্রুত নষ্ট করবেন না। সে সবকিছুতে দ্রুত বিশ্বাস করে তাই আরও দ্রুত সে বিশ্বাসে চির ধরলে তার কাঠিন্য অনেক বেড়ে যায়। এটা জানা খুবই জরুরি। তার হাত খরচের টাকা পকেটে শুধু একটা ছিদ্রই করে, তথাপিও যা কিছু তার কাছে অবশিষ্ট থাকবে সেটা হাসিমুখেই দুধ কিনবার জন্য আপনাকে দিয়ে দেবে। আপনার মেষ কন্যাটি প্রতিবেশী শিশুগুলোকে প্রতিদিন দেবে যাতে তারা পিপড়াগুলোকেও পায়ে না দলে। জ্ঞান হবার সময় মেষ শিশুদের সাথে কর্কশ ব্যবহার তাদেরকে পরবর্তীতে আত্মকেন্দ্রিক নিষ্ঠুর চরিত্রের করে তোলে। কিন্তু নম্র আর কোমল ব্যবহার পেলে সেই আবার হয়ে ওঠে অতি মহানুভব আর সহানুভূতিশীল। তাকে আদেশ করবেন না, বরং হাসি মুখে কিছু করতে বলুন, সে নি:সংকোচে সেটা করে দেবে। কখনো তার আত্মবিশ্বাসটা ভাঙ্গবেন না। তার জন্য এটা অক্সিজেনের মতোই জরুরী। সে হয়তো বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে পারে মঙ্গলদের আত্মনির্ভরশীলতা খুব তাড়াতাড়ি আসে যাইহোক সে আগের থেকে উন্নত হয়েই ফিরে আসবে। তাকে শেখাবেন যে, বিনয়ী আর নম্র সমবয়সীদের উপর আধিপত্য খাটানোটা নিষ্ঠুর কাজ। সে কখনই কারো ওপর নিষ্ঠুর হতে চায় না।

চারপাশের শান্ত আর নেতিবাচক মনোভাবের লোকেরা তার মনে আঘাত হানতে পারে, কিন্তু যাই ঘটুক সে পিছু হটবার পাত্র নয়। (হিরের কথা মনে পড়ে?) সে হয়তো বইয়ের পোকা, আর খুব ভালো পাঠকও, কিন্তু কলেজের চারটা বছর তার জন্যে হয়তো একটু বেশি সময়। মেষজাতকেরা বরং বেশি আগ্রহী দ্রুত আসল কাজে চলে যাওয়ায়। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি ধৈর্য হারাবেন না। সে উচ্চশিক্ষার অতিরিক্ত কিছু ডিসিপ্লিন নিয়ে তার মনের জ্বলন্ত বাসনা আর হঠাৎ উছলে ওঠা অন্তর্জ্ঞানের মোকাবেলা করবে। যতই সে পড়াশুনার একটা দৃঢ় কোন ধারার মধ্য দিয়ে যাবে ততই সে একটা চাকুরি বাকরি করবার জন্যই বরং ব্যাকুল হয়ে উঠবে। আর তখনই আপনি বুঝবেন যে সে পড়াশুনার প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

তাকে হয়তো দায়িত্ববোধের শিক্ষা দেয়াটা জরুরি, কিন্তু আপনি যদি ভালোবাসা দিয়ে, সৎ পরামর্শ আর সরাসরি যুক্তি দেখিয়ে তাকে শেখান তো সে দ্রুতই শিখবে। দুটোই সে পছন্দ করে। বাবা-মা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে রাখা জরুরী যে মেষশিশুরা প্রশংসাতেই ভালো করে আর অটলভাবে তার লক্ষের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু তাদেরকে মানসিকভাবে আঘাত করা হলে তারা ভেঙ্গে পড়ে আর চেষ্টা করবার মানসিকতাও হারিয়ে ফেলে। তাকে বলুন তার কোন জিনিসটা আপনার ভালোলাগে তাহলেই সে আপনার অপছন্দের কাজটা কম করবে। আপনি যা প্রত্যাশা করবেন ঠিক সেভাবেই নিজেদেরকে গড়ে নেবে মেষ শিশুরা, এমনকি তারাও যারা তাদের উত্তেজিত প্রাণটাকে তাদের ঠাণ্ডা আবরণের নিচে লুকিয়ে রেখেছে। শিশুটিকে আপনার সবসময় ব্যস্ত রাখতে হবে না হলে সে বারবার কোন ঝামেলার দিকে এগিয়ে যাবে। বিচ্ছিন্ন আর স্খানচ্যুত শক্তিগুলোর পুনর্বিন্যাসের জন্য তার পর্যাপ্ত ঘুমেরও প্রয়োজন রয়েছে।

সে ভালোবাসবে সাহসী আর উচ্ছল যোদ্ধাদের কাহিনী যারা নতুন বিশ্বটাকে জয় করেছিল। কিন্তু সে সেই লেপ্রেকনেও বিশ্বাস করবে আর ভালো ইচ্ছা করলে তা পূরণ হবে এটাও বিশ্বাস করবে। আপনি যতদিনে আপনার মেষশিশুটির সব জুতো ফেলে দিয়েছেন আর অবশেষে আপনার প্রথম নাতিটিকেও স্বাগত জানিয়েছেন তারও অনেক পড়ে গিয়ে হয়তো তার এইসব বিশ্বাসগুলো নষ্ট হবে, কিন্তু তার আগে নয়। আপনি যদি সার্বক্ষণিক ভালোবাসা, যত্ন আর নম্রতা দিয়ে আপনার মেষশিশুটিকে বড় করে তুলতে পারেন তো সে অসম্ভব যত স্বপ্ন দেখার চমৎকার একটা গুণের অধিকারী হবে। আর সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তব রূপ দিতেও সক্ষম হবে।
avatar
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 806
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum