Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : নারীদের বৈশিষ্ট্য

View previous topic View next topic Go down

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : নারীদের বৈশিষ্ট্য

Post by Admin on 2013-08-04, 21:12

তাহলে আপনি একজন মেষ নারীর প্রেমে পড়েছেন? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না আপনাকে সাবাস জানাবো নাকি সমবেদনা জানাবো। বায়রন যখন লিখেছিলেন, “পুরুষের ভালোবাসা তার জীবনের একটা দিক, কিন্তু নারীদের জন্য এটা সমগ্র অস্তিত্ব।” তখন তিনি বুঝি মেষ নারীদের কথা ভুলে গিয়েছিলেন। একজন মেষ নারী হয়তো ভাবেন যে ভালোবাসা তার সমগ্র অস্তিত্ব। কিন্তু সে তার চারপাশের পৃথিবী নিয়ে এতই মগ্ন এবং বলা বাহুল্য নিজেকে নিয়েও সে এত মগ্ন যে সে এই দিয়ে তার জীবন শুরু করে এবং এ দিয়েই তার জীবনের অন্ত হয়। সে অন্য যে কোন নারীর তুলনায় অনেক সহজে পুরুষের সান্ন্যিধ্য ছাড়াই জীবন কাটিয়ে দিতে সক্ষম।

অবশ্য পুরুষসঙ্গী ছাড়াই জীবন যাপন আর রোমান্সহীন জীবন যাপন এক কথা নয়। তার হৃদয়ে সবসময়ই সেই স্বপ্নপুরুষের জন্য হাহাকার থেকে যায়। সে হয়তো বহু আগেই বিলীন হয়েছে কিংবা এখনও অনেক দূরেই রয়েছে - নতুবা পালিয়ে আছে চোখের আড়ালে এবং স্পর্শের সীমানার বাইরে, ভবিষ্যতের কোন এক কুয়াশামগ্নতায় - কিন্তু তার কথা সে ভেবে যাবে বৃষ্টি ঝড়া এপ্রিল পর্যন্ত। সেই পুরুষ তাকে দূরের স্মৃতির মতো তাকে ছুয়ে যাবে প্রথম বসন্তের সময়। কিংবা যখন বিশেষ কোন গান শোনে কিংবা বজ্রপাতের আলোয়। যাইহোক, যখন তার বুক হাহাকার করে উঠবে সেই স্বপ্নপুরুষের জন্যে তখন যদি সে সশরীরে আশেপাশে উপস্খিত নাও থাকে তবুও আমাদের মেষ নারী ভীষণ কাতর হয়ে পড়বে না। তার স্বপ্নপুরুষ যা কিছুই করুক না কেন, সে তার চাইতেও ভালো কিছু করতে সক্ষম - এই হলো মেষ নারীর বিশ্বাস।

মেষ নারী তার দরজা খুলবে, কোটটা গায়ে জড়াবে এবং জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হবে, চেয়ারটা নিজেই এগিয়ে নেবে, ট্যাক্সিটা ডেকে নেবে, সিগারেটটা ধরাবে নিজেই - তার কোন পুরুষের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। তার কাছে নিজে এসব করে নেয়াই হলো এসব করবার দ্রুততম উপায়। সাধারণভাবে, নারীদের এসব গুণাবলী পুরুষদের ভঙ্গুর আত্মগরীমার সাথে ঠিক খাপ খায় না। একজন মেষ নারী প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে সে সবকিছুতেই নেতৃত্ব দেবে এবং যে কোন কাজের ক্ষেত্রে সেই প্রথম উদ্যোক্তা হবে এবং এটা তার রোমান্সের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। অন্যান্য সব রাশির নারীদের থেকে মেষ নারীরাই প্রেমের প্রস্তাবটা আগে দিয়ে থাকে, বিশেষত যখন তার পছন্দের মানুষটি প্রস্তাব দেবার ক্ষেত্রে ধীরগতি হয়। এবং মেষ নারী প্রস্তাব দেবার পর যত তাড়াতাড়ি আপনি তাকে আপনার অনুভূতি জানিয়ে দেন ততই নিরাপদ। আপনি কোন সুযোগ নেবার আগে এটা করলে আরো ভালো হয়। মেষ নারীর উপর কর্তৃত্ব প্রয়োগের ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকুন। সে তার ভালোবাসা-প্রণয়ের ক্ষেত্রেও নেতৃত্বে থাকতে চায়। তার কোমর জড়িয়ে ধরবার আগে কিংবা তাকে শুভরাত্রির চুম্বন করবার আগে ভালোভাবে নিশ্চিত হয়ে নিন যে তার হৃদয়টাকে যথাযথভাবেই আপনি পকেটে পুরতে সমর্থ হয়েছেন। অন্যথায় সে হয়তো আপনার থুতনিতে হঠাৎ একটা চোট দিয়ে ভীত হরিণীর মতো দৌড়ে পালিয়ে যাবে।

এ কথার অন্য মানে করবেন না। এই দৌড় তার মেয়েলী বিনয় নয়। সে আপনার ভালোবাসার ভয়ে ভীত নয়। সে এগুলো ভালোই সামলাতে জানে। তার দৌড়ে যাবার কারণ হচ্ছে সে একটা পূজাঅর্চনাকারী কৃতদাস কিংবা ভালোবাসায় কাতর আদুরে কুকুরের সাথে ঝামেলায় জড়াতে চায় না, কেননা এর দুটোই তার বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়। বরং খাপছাড়াই থাকুন, আপনি ভালোবাসেন কিনা এটা তাকেই বুঝে নিতে দিন আর তা হলে দেখবেন সেই হয়তো আপনাকে কোন এক কোণে এসে চেপে ধরেছে। যে পুরুষেরা মেষ নারীর প্রভাবকে পরাভূত করতে পারে সেই তার আকর্ষণ লাভে সক্ষম হয়। সে বুঝতে পারে না কেন সে তার প্রিয়তমকে নিজের প্রচ্ছন্ন চমৎকারিত্ব দিয়ে উতলা করতে পারছে না। এরপর তার মঙ্গল প্রভাবিত আত্মগরীমার কোন শক্তিই থাকবে না নিজেকে আকর্ষণীয় বলে প্রমাণ করবার, এমনকি যখন তার প্রিয়তমের উপর কোন আগ্রহই আর অবশিষ্ট না থাকে তখনও।

স্কারলেট ও’হারা হলেন মঙ্গল শাসিত মেষ নারীর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ। স্কারলেটের মতোই একজন মেষ নারী চায় তার দু’পায়ের থেকে শুরু করে কয়েকশ মাইল পর্যন্ত পুরুষেরা তাকে পাবার জন্যে অধীর হয়ে থাকুক। কিন্তু তার হৃদয় যার জন্যে হাহাকার করে সেই একজনকে কোন এক অজ্ঞাত কারণে কিছুতেই সে অর্জন করতে পারে না। স্কারলেটের মতোই মঙ্গল নারীরা টিকে থাকবার জন্য প্রয়োজনীয় পন্থা কোন নারীসুলভ আচরণ ব্যতিরেকেই দ্রুততার সাথে শিখে নিতে পারে। ওহারা এবং একজন মেষ নারী উভয়েই তার প্রিয় কারো জীবন হুমকির সম্মূখীন হলে যেকোন বড় সংস্কার অস্বীকার করতে, এগিয়ে আসা আর্মীদের সমুখে অবলিলায় পথরোধ করে দাঁড়াতে, কিংবা অন্য এক পুরুষের কপাল দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি চালিয়ে দিতে পারে।

যখন উপোস ছিলেন, একাকী ছিলেন আর কোন বন্ধুবান্ধবও পাশে ছিল না, তখনই স্কারলেট সর্বোচ্চ মঙ্গল যোগে ছিলেন। কোন পুরুষ এসে তাকে উদ্ধার করবে এ আশাতেও তিনি দিননিপাত করেন নি। বরং তিনি তার হাতটাকে মুষ্ঠি পাকিয়ে আকাশের দিকে তুলে ধরে চিৎকার করে বলেছিলেন, “আমি এ অবস্খা থেকে উতরে উঠবোই... আর যখন আমি তা পারবো সেটা দ্বিতীয়বার উপোস থাকবার জন্যে নয়... আমাকে যদি মিথ্যাও বলতে হয়, প্রতারণা করতে হয়, চুরি কিংবা খুনও করতে হয় - স্রষ্টা তুমি সাক্ষী, আমি আর কখনই না খেয়ে থাকবার মতো অসহায় হয়ে উঠবো না।” অনেক পরে তার আবেগটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তার প্রাণপ্রিয় শিশুটি মারা গেল, আর যে একজন মানুষকে সে ভালোবাসতো সেও তার জীবন থেকে সরে যাবার উপক্রম করলো। কিন্তু এরপরও এই বিশেষ মেষ নারীটি বললেন, “তাকে ফিরিয়ে আনবার জন্যে কোন একটা পথ আমি ঠিকই বাতলে নেব। এরকম কোন পুরুষ নেই যাকে আমি চেয়েছি অথচ পাইনি... কেননা আগামীকালটাতো অন্য আর একটা দিন!”

স্কারলেট ওহারা রাশিচক্রের প্রথম রাশিটির চরিত্রের এমন একটি ছবি তুলে ধরে যা প্রতীয়মান করে যে মঙ্গলের পূর্ণযোগ এবং ক্ষমতা পেলে এরা যে কোন দু:সহনীয় কষ্টকে অতিক্রম করতে পারে। এরা নারীর ভূমিকায় চরম নারীত্বের পরিচয় দিতে যেমন সক্ষম তেমনি যখন আশেপাশে পুরুষ নেই তখন পুরুষের কাজ এবং দায়িত্বগুলো নিজেই সুচারুভাবে করতে সক্ষম। স্কারলেটের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি ঠিকভাবে পড়লে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার মেষ নারীটি আপনার ক্ষেত্রে কেমন হবে। আর একবার ততটুকু সাহসী হয়ে তার ভালোবাসা দাবি করবার পর আপনার জন্যে কী সব আনন্দদায়ক ব্যাপার লুকিয়ে রয়েছে সেটাও বুঝতে পারবেন। তার আগ্রাসী চলন হয়তো মেনে নেয়া শক্ত কিন্তু তার ঝলমলে আশাবাদ আর ভবিষ্যতের প্রতি অটল বিশ্বাস নিশ্চয় প্রাণের স্ফূরণ।

সৎ প্রশংসা দিয়ে সহজেই একজন মেষ নারীকে কাবু করা যায়। তাকে জানতে দিন যে আপনি তার প্রশংসাকারী। কিন্তু প্রশংসার ব্যাপারে বেশি ফুলেল কিংবা তুষামুদে হবেন না। কেননা ভালোবাসার প্রতি তার রয়েছে প্রভুত সততা। যতক্ষণ আপনি তার আবেগটাকে রাখার চেষ্টা করবেন, কেননা সে খুবই আবেগী। মেষ রাশির নমূনা অনুযায়ী তার মধ্যেও একটা বিশেষ অসঙ্গতি রয়েছে: সে চায়না আপনি খোলামেলাভাবে তার পেছনে লেগে থাকেন, আবার সে এটাও চায় না যে আপনি একটু বেশিই দূরে দূরে থাকেন। সেক্ষেত্রে সে অল্পসময়েই আপনার উপর থেকে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে। সে পুরোপুরি কর্তৃত্বপরায়ণ পুরুষকে চায় না, আবার ভালোবাসায় আকূল হয়ে তার পায়ের কাছে বসে থাকবে এমন পুরুষও সে চায় না। ভালোবাসা মেষ নারীকে তখনই সুখ দেবে যখন সে প্রেমিককে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেবে। সে সবসময় চায় তার প্রিয়তমকে নিয়ন্ত্রণ করতে, অথচ তার মনের সুপ্ত ইচ্ছা যে সেই বরং নিয়ন্ত্রিত হবে তার প্রিয়র দ্বারা। অবিশ্বাস্যভাবে ভাববাদী এই মেষ নারী কখনও কখনও ব্যর্থভাবে তার ঝলমলে বর্ম পরিহিত সেই সাহসী যোদ্ধার খোঁজ করে বেড়ায় যার চমৎকারিত্বের শিহরণে তার পায়ের নিচ থেকে মাটিও সরে যাবে। আর যে সমগ্র বিশ্বটাকেও জয় করে নেবে। এবং সেটা তার প্রিয়তমাকে কোমলভাবে উপহার দেবে। কিন্তু কোন পর্যায়েই সে কাপুরুষ হয়ে উঠবে না। যেহেতু সেই পুরুষের বিচরণ শুধুই কল্পকাহিনীতে কিংবা রাজা আর্থারের বিচারালয়ের পৌরাণিক কাহিনীতে, তাই মেষ নারী প্রায়শই একাকীই তার জীবনের পথে হাঁটে তার পথপ্রদর্শক তারকার অনুপস্খিতিতে। তার দিনগুলো উজ্জ্বল আর আনন্দে ভরপুর, কিন্তু তার রাতগুলো কখনও কখনও অন্ধকার আর নি:শব্দ হাহাকারে শোকার্ত। তারপরও যখন তার পরাস্ত স্বপ্নটা জ্বলন্ত ছাই হয়ে গেছে, আর আপনি ভেবে নিয়েছেন যে তার ভেতরের সেই হাস্যউৎফুল্লতা আর প্রাণচঞ্চলতার মৃত্যু হতে চলেছে তখনই সে আবার জেগে উঠবে নতুন আগুনের খোঁজে।

ভালোবাসা পেতে হলে আপনাকে নিয়ে তার গর্বিত হবার কারণ সৃষ্টি করতে হবে। তাই বলে এমনটি যেন করবেন না যে আপনি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ ভাব নিয়ে থাকলেন যে তার প্রতিভা আর ক্ষমতার কোন কৃতিত্বই তাকে দিলেন না। যদিও সে আপনার কাছ থেকে বহু কিছুই প্রত্যাশা করবে তবুও সে বিনিময়ে আপনাকে দ্বিগুণ বেশি দেবে। মেষ নারী তার সময়, সম্পত্তি, আর টাকা পয়সার ক্ষেত্রে কোন ভুল হয়ে থাকলে সেটা সহজেই মেনে নেবার মহানুভবতা প্রদর্শনে সক্ষম। কিন্তু এটা যদি তার ভালোবাসার ক্ষেত্রে হয় তাহলে সে ঝট করে কঞ্জুস হয়ে উঠতে পারে। প্রেম ভালোবাসার ক্ষেত্রে “যা কিছু তার সেটা শুধুই তার”, আর এক্ষেত্রে ছোট অবহেলাও হিংসাত্মক বিস্ফোরণের সৃষ্টি করতে পারে। তার কানের কাছে আপনার প্রিয় নায়িকার বেশি প্রশংসা করবেন না, কিংবা তার কোন বান্ধবীকেও বেশি বেশি প্রশংসা করতে যাবেন না। স্ত্রী মেষ জাতিকা তার বরং পুরুষ সেক্রেটারি থাকাই নিরাপদ। যখন মেষ নারী সত্যই আঘাত পায় তখন সে আগুন থেকে বরফ হয়ে যায়। তার আগুনের উত্তাপটা অনেক কিন্তু তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে যায়। তার শীতলতাটা চিরস্খায়ী হওয়াও বিচিত্র কিছু নয়। মনে রাখবেন - আপনি যদি সত্যিই তার প্রতি যত্নশীল হন তো সেও আপনার জন্যে তার সর্বোচ্চটাই করবে। মেষেরা খেলতে হলে খেলে ধরে রাখবার জন্যে।

সে তার প্রিয়তমকে একটা ভিত্তিতে দাঁড় করিয়ে দেয় আর আশা করে যে তার প্রিয় এক অসম্ভব পর্যায়ের উৎকর্ষে উন্নীত হবে। সে কিছুতেই বুঝতে চায় না যে তার প্রিয়র পা দুটো কাদার তৈরি, সে শেষপর্যন্ত অবশ্য তার প্রিয়র কষ্টটা দেখতে পায় কিন্তু ততদিনে তার প্রিয়র পা দুটি কর্দমাক্ত হয়ে উঠেছে। কোন মেষ নারীর প্রেমিক, স্বামী কিংবা শিশুদের নিয়ে কখনই তার সমুখে সমালোচনা করবেন না, অবশ্য আপনি যদি অগ্নি-নিরোধোক, কিংবা বিদ্যুৎ নিরোধক বর্ম পড়ে থাকেন তো অন্য কথা। আপনি তার আশাময় পরিকল্পনাটাকে মলিন করে দিলে সে হয়তো অভিলাষী, স্বার্থপর হয়ে উঠবে এবং আপনাকে হয়তো আহত করে অনেক কথা বলে বসবে। কিন্তু তার চাহিদার আধাআধি পূরণ হলেও সে হয়তো নম্র, উজাড় এবং সহযোগিতায় আগ্রহী হয়ে উঠবে।

মেষ নারী নারীর থেকে পুরুষ সঙ্গ বেশি পছন্দ করে। নয় বছরের শিশু হোক কিংবা হোক ৯০ বছরের বুড়োই হোক, যার সাথেই তার দেখা হোক না কেন সে আগ্রহভরে প্রত্যেক পুরুষের কাছ থেকেই প্রশংসা দাবি করে। সুতরাং সম্ভবনা খুবই বেশি যে আপনার সাথে হিংসার সবুজ ভূতগুলোর সাথে ঠিকই দেখা হবে। যাইহোক, এসব ভুলে যান। সে আপনার ব্যাপারে যতখানিই বা দখলপ্রবণতা দেখাক না কেন, আপনার দখলপ্রবণতা কিংবা অধিকারী মনোভাবের ব্যাপারে সে একমুহূর্তের জন্যও ধরা দেবে না। মেষ নারীরা নিজেদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, সেটা বিয়ের আগেই হোক কি পরেই হোক। সে যেখানেই যাক কিংবা যাকিছু করুক আপনার তাকে বিশ্বাস করতে হবে, যদিও সে নিজেও এসব ক্ষেত্রে আপনাকে বিশ্বাস করবে না (যদি না সে তার ভয়ঙ্কর আবেগকে শাসনে রাখবার কঠিন শিক্ষাটা নিয়ে থাকে)। যদিও শুনতে খুব কঠিন মনে হচ্ছে তবুও এতটা কঠিন নয় ব্যাপারটা, কেননা একবার সে আপনার হলে সে বিশ্বস্তই থেকে যাবে। একজন মেষ নারী খুব কমই একই সাথে দুই পুরুষের প্রেমে পড়ে। সে এসব প্রতারণার জন্য একটু বেশিই সরল। যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আগে কিংবা অন্য কারোর সাথে সম্পর্কে জড়াবার আগে সে আপনাকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেবে যে আপনার প্রতি তার ভালোবাসা মরে গেছে।

মেষ নারীর মধ্যে গভীর প্রেমানুরাগ এবং রহস্যময় ভাববাদীতা মিলে মিশে একটা অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম দেয়। যেকোন সম্পর্কের ক্ষেত্রেই সে চিরকাল সততা চায়, কোন মেয়েলী ছলা কলা, ফিরে যাওয়া, কিংবা শারীরিক কসরত করে বশে আনবার চেষ্টা তার স্বভাবে নেই। তার কথা আর কাজের মতোই তার ভালোবাসাও খুব দ্ব্যর্থহীন। তার আবেগের চরম সরলতার পরিচ্ছন্নতা আর সজীবতা রয়েছে। তারপরও এটাই তার মাথায় পানি ঢালবার কারণ হয়ে দাড়ায়। তাকে হয়তো আপনার কিছুটা বশে আনতে হবে। সে যদি আপনাকে সত্যিকার অর্থেই ভালোবাসে তবে এটা সে অবাক করা বশ্যতার সাথে মেনে নেবে। মঙ্গল নারীরা বেশির ভাগই তাদের বিবাহিত জীবনের চেয়ে তাদের পেশাগত জীবনের প্রতি বেশি আগ্রহী। একজন পুরুষ যে কাজ পারে তার প্রায় সবগুলোই সেও করতে পারে, সেটা হোক স্টকের দালালী কি রিয়েল এস্টেটের ব্যাবসা। মেয়েদের পেশা মডেলিং কিংবা অভিনয়েও সে খ্যাতি অর্জন করতে পারে। যদি কোন একটা পেশা তার কাছে অগ্রগতির শেকড় বলে মনে হয় তো সে আপনার জন্যে হলেও সে পেশা ছাড়বে না। সে হয়তো তার পেশাকে ছাড়তেও পারে, তবে সেটা শুধু তখন যখন সে রোমান্সের ঝলকে বিহ্বল হয়ে রয়েছে আর তার গল্প-কাহিনীর মতো করে নিজেদের দুজনের জন্য সাগরের পাশের ঘরটার মনে মনে একটা ছবি দাঁড় করাচ্ছে। (এ ব্যাপারটা হলো মেষদের কল্পনার একটা সাধারণ নমুনা, তারা এরকম কল্পনায় নিমজ্জিত হলে যা কিছু দু:খময় তা ভুলে থেকে শুধু আনন্দটাকেই গ্রহণ করে।) কিন্তু যখনই তার ঘরটাতে একটু রঙ করবার প্রয়োজন কি ঘরের ছাদটাতে ছিদ্র হতে শুরু করেছে, কিংবা প্রথমকার প্রণয়ের ঘোরটা গেছে কেটে তখনই সে তার সামাজিক নিরাপত্তার কার্ডটার জন্যে চিন্তিত হয়ে পড়বে। আর তাকে চিন্তিত হতে দিন। অলস সময়ে কোন আকর্ষণীয় কাজে ব্যস্ত হতে পারলে সে বরং অনেক বেশি নম্র, সুখী আর প্রেমময় হয়ে থাকবে। মঙ্গলদের অপরিপূর্ণ আবেগ হয়তো তিল থেকে তাল হয়ে উঠতে পারে।

বস্তুত এমন কোন সমস্যা নেই যা এই নারী মোকাবেলা করতে পারবে না। কোন একটা ব্যাপারকে সে যদি চ্যালেঞ্জিং মনে করে কিংবা মনে করে যে এটা তার জীবনকে উজ্জ্বল করবে তো সে ব্যাপারটাকে একটু খুচিয়ে দেখবেই। আমি একজন মেষ নারীকে চিনি যাকে অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে মাত্র দুরুমের একটা বাসায় তার স্বামী, ৫টি সচল সন্তান আর একটি কুকুর নিয়ে কয়েক বছর পর্যন্ত থাকতে হয়েছিল। এই ধরনের একটা ব্যবস্খা একটু বেশিই সংকুচিত আর সংকীর্ণ, আর ন্যূনতম জ্ঞান থাকলেও একজন নারী হয়তো সন্দেহ করে বসবেন যে ঐ মহিলা মেষ নারী ছিলেন না। কিন্তু আমার দেখা এই মেষ জাতিকা ঠিকই মেনে নিতে পেরেছিলেন তার অবস্খানকে, যদিও তার মধ্যে ভালো থাকবার আকাক্ষা রাগ হয়ে বিভিন্ন সময়ে উথলে উঠে থাকবে। এরকম অবস্খায় একদিন এক জোতিষবিদ তার হাত দেখে বলেছিলেন যে গ্রহ নক্ষত্রের প্রভাবের কারণে তাকে হয়তো বেশ কিছু সময়ের জন্য প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে দিননিপাত করতে হবে। ভদ্রমহিলা বিস্মিত হন এবং খুবই আগ্রহী হয়ে উঠেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন, “কখন এটা ঘটতে পারে বলে মনে হচ্ছে?”

এই আবেগী মেষ নারীই আবার একদিন আরেকটি কুকুর দুই রুমে অবস্খানরত ৫ জনের ক্যাম্পটাতে অন্তর্ভূক্ত করবার জন্য পাগল হয়ে উঠলেন। তার কাছে মনে হলো যে তার বাড়ির পুরুষ কুকুরটার জন্য একটি মেয়ে সঙ্গীর প্রয়োজন। পূর্বোক্ত কুকুরটা যেন বেশ একাকীত্বের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। তাছাড়া, শিশুগুলোর কাছেও পরিকল্পনাটাকে আনন্দদায়কভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বলে মনে হচ্ছিল। দ্বিতীয় কুকুরটাকে ঘরে স্খান দেবার পর পরই তিনি আবিষ্কার করলেন যে তার এই কুকুরটা ট্রেনিংপ্রাপ্ত নয় (ঘরেই সে তার সব কাজ সারে)। একজন সংকল্প নেয়া ড্রিল সার্জেন্টের মতো সে তার ঘরের সব বাসিন্দাদেরকে দায়িত্ব দিলেন তার কার্পেট পরিষ্কার করতে। তারপর যখন তিনি দেখলেন যে এটা কোনভাবেই আর আগের মতো হবে না তখন তিনি আর একটি সিদ্ধান্ত নিলেন। দ্বিতীয় কুকুরটাকে বিদায় করার? নিশ্চই নয়! তিনি মনে মনে আশা করছিলেন যে খুব শিগগিরই কিছু কুকুর ছানা জন্ম নেবে। আর ছোট একটা কার্পেট কিনবার টাকা কোন না কোন ভাবে নিশ্চয়ই জোগার হবে, বা করতে হবে। মজার যে টাকাটা ঠিকই জোগার হয়েছিল। আর কুকুর ছানাগুলোর ব্যাপারে সে নিশ্চিত ছিল যে ওগুলো জন্মাবার আগেই তারা সবাই একটা নতুন এ্যাপার্টমেন্টে উঠতে পারবে। মজার ব্যাপার - তার এ বিশ্বাসও সত্য হয়েছিল। অসম্ভব কোন চমৎকারিত্ব বুঝি শুধু তাদের জীবনেই ঘটে যারা অসম্ভবটাও ঘটবে বলে সৎভাবে বিশ্বাস করতে জানে। আর মেষ নারীরা নিশ্চয়ই বিশ্বাস করে। কখনও কখনও বেশ বোকার মতোই বিশ্বাস করে তারা। তার অযৌক্তিক চিন্তাধারা তাকে জটিল কোন অবস্খায় ফেলে দিতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয়বার একই কারণে উদ্ভুত জটিল অবস্খা থেকে মুক্তির উপায় জানতে জানতে তার মাথায় কিছু চুল হয়তো ধূসর হয়ে যাবে। মেষেরা তাদের অভিজ্ঞতা থেকে তেমন একটা শিক্ষা নিতে পারে না। সে হয়তো মন থেকে চায় একই ভুল বারবার না করতে কিন্তু ভুল করবার স্বভাবটা তার থাকবেই। মেষ নারীকে বাইবেলের শিক্ষা দেবার কোন মানে নেই। ‘অহংকার পতনের মূল’ এই সতর্কবানীটা যখন সে প্রথম জেনেছিল তখন এটার মানে সে করেছিল, ‘যার অহংকার নেই তার পতন অনিবার্য’।

এই দু:শ্চিন্তা কখনও করবেন না যে চরিত্রহীন এবং নারীআসক্ত পুরুষদের কাছে একজন মেষ নারী সহজেই বশ্য। চরিত্রহীন আর নারীআসক্ত পুরুষদেরকে প্রতিহত করবার মতো কাঠিন্য তার আছে। বরং ভয় আছে তেমন কোন পুরুষকে নিয়ে যে ভাববাদী আর তার কোন একটা বিষয়ে ভাবনা আছে, যে ভাবনাটা তার ভিত্তি ইতোমধ্যেই হারিয়েছে। কিন্তু তার সাথেও মেষ নারী নিজের স্বাতন্ত্রতার উপর্যুপরি চর্চা করবে। মেষ নারীর আত্মগরীমা সম্পূর্ণভাবে বিলীন হওয়া অসম্ভব। অবশ্য একজন উপযুক্ত পুরুষ হয়তো এটাকে কিছুটা হলেও দমাতে সক্ষম হবেন। সে আপনাকে উপহার কিনে দেবে, টাকা ধার দেবে, আপনি অসুস্খ হলে সেবা যত্ন করবে, এমনকি চাকরিও খুজে দেবে। আর বিনিময়ে এসব জিনিস সে আপনার কাছ থেকেও প্রত্যাশা করবে।

সে অবশ্য আপনার কোন সহায়তা নিতে প্রকট আবেগের সাথে অস্বীকার করবে (সে তার সবকিছুই আবেগতাড়িত হয়েই করে)। কিন্তু যখন তার অবস্খা করুণ, তখন আপনাকেও মানসিকভাবে করুণ হতে হবে। আবার যখন সে আনন্দিত, তখন আপনাকেও আনন্দভাব দেখাতে হবে। মেষদের কাছে ভালোবাসা হলো দুজনার সমভাগী হওয়া। সে প্রত্যাশা করবে আপনার রেজারটাতে, কি আপনার ব্যাংক এ্যাকউন্টে, কি আপনার বন্ধুত্বে এবং আপনার স্বপ্নেও তার সমঅধিকার। বিনিময়ে তারটাও আপনি পাবেন। অবশ্য তার রেজারটা হয়তো ভাঙ্গাচোরা গোছের, ব্যাংক এ্যাকাউন্টের অবস্খা নাজুক, বন্ধুদের সাথে সম্পর্কটাও বিক্ষিপ্ত রকমের আর তার স্বপ্নটা এতই বড় যে আপনার সেটা গলাধকরণ করতে সমস্যাই হবে। কিন্তু সে এসব ব্যাপারে স্বার্থপর নয়। তার কাছ থেকে কোনকিছু গোপন করলে সে রাগে উন্মাদ হয়ে উঠতে পারে। আর মেষদেরকে রাগানোটা আপনার জন্য নিরাপদ নয়। কখনই সবার সমুখে তার ব্যাকরণ, কি পোশাক আশাক কি ব্যবহার - এসবের সমালোচনা করবেন না। কেননা সেও কখনও আপনাকে অপ্রস্তুত করবে না, আর এসব ব্যাপারে তো নয়ই।

তার অহংকারে আঘাত করলে কিংবা কোন ব্যাপারে তার অতিউত্তেজনাকে মলিন করা আর তার হৃদয়টাকে প্রায় ভেঙ্গেই ফেলা একই কথা। অন্যেরা সবসময় তার সাথে এই কাজটিই করবে। বিশ্বটা সেই নারীকে ঘৃণা করে যে এটার দিকে পিঠ দিয়ে রাখে, আর ভাবে যে সে অন্য সবার চেয়ে স্মার্ট। আর যখন অবশেষে সে দেখবে যে প্রকৃতই সে সমগ্র বিশ্বটার অধিকর্তা নয় তখন সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে আপনার বুকে ছুটে আসবে। তার বিশ্ব তখন অন্ধকার আর আশাহীন। আর তখনই আপনি সুযোগ পাবেন তার ভেতরের আসল নারীটাকে দেখবার, যে নারী হবে প্রতিহত করবার শক্তিহীন, খুবই দুর্বল, আর আত্মবিশ্বাসহীন। প্রকৃতপক্ষে সে কিন্তু সোজা সরল কুলসুম নয়। সে হয়তো বা হতে চায়। সে শক্তির প্রশংসা করে আর সেটাকে অনুকরণ করতে চায়। মেষদের আশাবাদিতা আর ভাবালুতা বাস্তবতার কষাঘাতে সবসময়ই ভেঙ্গেচুড়ে পড়ে। এ সময় কোমলতার সাথে তাকে শান্ত করতে চেষ্টা করুন। যদি তা পারেন তো কখনই সে আপনার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে না। তার শত্রুদের থেকে সবসময় তাকে রক্ষা করুন। সে কখনই আপনাকে ক্ষমা করতে পারবে না যদি তার হয়ে আপনি ওদের বিরুদ্ধে না দাঁড়ান কিংবা তার পক্ষ না নেন। (তবে প্রস্তুত হন তাদের সাথে আবার মিলে যাবার জন্যে, অবশ্যই সে মিলে যাবার পর, আর সেটার জন্য আপনাকে খুব বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।) অন্ততপক্ষে সে এ ব্যাপারটাতে সৎ। সেও আপনাকে বাঁচাবে। একজন মেষ নারী তার খ্যাতি আর ভবিষ্যৎ দুটোই সেই মানুষের মুখে ছুড়ে ফেলে আসবে যে তার কোন প্রিয়জনকে আঘাত করবে। আর সে যদি আপনাকে ভালোবাসে তবে তার রাগ মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সবকিছুর উপরে হলো মেষ নারীরা বিশ্বস্ত।

একজন স্ত্রী হিসেবে সে খুবই কাজের। বাইরের আকর্ষণ তার মধ্যে থাকবে কেননা ঘরে তার সৃষ্টিশীল প্রাণশক্তির বিকাশ খুব কমই হতে পারে। প্রত্যাশা করবেন না যে আপনার মেষ প্রেয়সীটি ছোট্ট একটা সুখী পোকা যে ফায়ার প্লেসের চারপাশ দিয়ে তৃপ্তভাবে গুনগুনিয়েই যাবে। সে একজন ভালো রাধুনী, ঘরটাকে সে ঝকঝকে তকতকে করে রাখবে, অন্তত ঘরের যতটুকু দেখা যায় ততটুকু। সে জামার বোতাম সেলাই করে লাগিয়ে দেবে, জামা কাপড়ও ইস্ত্রি করে দেবে, কিন্তু এটা সে বেশিদিন পছন্দ করবে না। তারপরও এটা সে করবে যখন এগুলো অপরিহার্য হয়ে পড়ে তখন। (একজন মেষ নারী প্রায় সবকিছুই করতে সক্ষম যদি সেটা অবশ্যকরনীয় হয়ে ওঠে।) তার ভেতরের উত্তাপটা যেন ফায়ারপ্লেসের আগুনের আরামদায়ক উজ্জ্বলতার মতো নয় বরং হিরের ঝলকের মতো উষä। তার স্বভাবের মধ্যে অনস্বীকার্য একটা ভঙ্গুরতার ব্যাপার আছে। আপনাকে শান্ত রাখবার চেয়ে বেশি সময় সে আপনাকে উত্তেজিত অবস্খাতেই রাখবে। কিন্তু সে একজন চমৎকার নারী এবং কখনই বিরক্তিকর নয়। আর তাছাড়া যে পুরুষের ধৈর্য ধরার সামর্থ আছে সে ঠিকই মেষ নারীর শক্ত খোলসের নিচের সেই নরম মানুষটাকে ঠিকই দেখে নিতে পারবে। মেষ জাতিকারা অন্যান্য সব নারীর থেকেই নরম প্রকৃতির কিন্তু এটা শুধু তার অতি প্রিয়জনেরাই জানতে পায়। তার কথোপকথন খুবই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক আর অনর্গল। সকালের নাস্তার সময় তাই খবরের কাগজের পেছনে মুখ লুকাবেন না। সে আপনার সঙ্গ চাইবে আর নইলে নিজের জন্য ডিমটা নিজেকেই ভেজে নিতে হবে। তার কাছ থেকে খুব কমই অসুস্খতার কিংবা ক্লান্তির অভিযোগ শুনবেন। কিন্তু তার শরীরে কোন ব্যথা হলে সে সীমাহীন সহানুভূতি প্রত্যাশা করবে। যদিও প্রচণ্ড জ্বরের মধ্যেও তাকে বিছানায় নিয়ে শুইয়ে দিতে আপনাকে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হবে, কিন্তু প্রস্তুত হন তার অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী হবার যদি তার দাঁতের ব্যথা হয়।

মেষ জাতিকা সেই নারী নয় যাকে আপনি ফোন করে জানিয়ে দেবেন যে অফিস থেকে ফিরতে আপনার দেরি হবে, যদি না আপনি পৌষের মাঝামাঝিই চৈত্র মাসের কাঠফাটা গরমের আঁচটা নিতে আনন্দ পান। ঐ গরমটা তার খুব একটা খারাপ লাগবে না, কিন্তু তার খারাপ লাগবে যদি সে জানতে না পারে প্রকৃতপক্ষেই আপনি কোথায় আছেন, বা কী করছেন। সে যদি ফোন করে খোঁজও নেয় তাতে বিস্মিত হবার কিছু নেই। আপনার বসের মনে আপনার মেষ সঙ্গিনীর একটা চমৎকার ছবি থাকতে পারে। অবশ্য সে ক্ষেত্রে আপনাকে লক্ষ রাখতে হবে যে আপনার সঙ্গীনিটি যেন কোনভাবেই আপনার বসকে ‘কীভাবে ব্যবসা চালাতে হয়’ সে ব্যাপারে কোন পরামর্শ দিতে না পারে। আপনি যদি সাময়িকভাবে বেকার হয়ে পড়েন তো ঘরের চাল চুলো হয়তো সেও যোগাবে কিন্তু সে কখনই এমন পুরুষকে ভালোবাসতে পারে না যে তার থেকে কম রোজগার করে (যদিও এ কারণে কোন মেষ নারীই তার স্বামীকে পরিত্যাগ করে না কিন্তু সে তার স্বামীর ব্যাপারে বিভিন্ন অজুহাত বানাবার দিকেই বেশি ঝুঁকে পড়ে)। কিংবা তার যদি নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার কোন দুর্লভ ক্ষমতা থাকে তো আপনার মুখ থেকে না সূচক কিছু শুনবার সাথে সাথেই সে উড়ে গিয়ে আয়না আর পারফিউমের বোতল খামচে ধরবে। আপনার সেক্রেটারির চুলের নতুন স্টাইল সম্পর্কে প্রশংসাসূচক একটা বাক্য একই রকম পরিণতি ডেকে আনতে পারে, কিন্তু আরও বিপদজনকভাবে। মেষ নারীর একটা স্বার্থপর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হলো তার বয়স থেকে শুরু করে তাকে কতখানি ক্লান্ত দেখাচ্ছে সে ব্যাপারে উদ্দেশ্যহীন সৎ একটা ব্যক্যের ব্যাপারেও সে খুবই সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, কেননা তার সন্দেহ যে আপনি বোঝাতে চাইছেন যে তাকে একটা খারাপ চেহারার বুড়ো মহিলার মতো দেখাচ্ছে।

আপনাদের বিয়ের পর অনুরাগ আর রোমান্সটা ধরে রাখুন নইলে সে যারপরনাই অসুখী হবে। কোন অবস্খা যার জন্য সুখের অভাব ঘটে, সেগুলোর ক্ষেত্রে মেষেরা খুব অল্প সময় নষ্ট করে, আর হয়তো পরিণতিটা হয় তাড়াহুড়োর বিচ্ছেদ অথবা আবেগী তালাকনামার মাধ্যমে। পারতপক্ষে তার হাতে সংসারের খরচের ভার দেয়াটা ঠিক হবে না, কিন্তু টাকা পয়সা আপনার কাছে ব্যাপার না হলে এটা করেও দেখতে পারেন। একজন মা হিসেবে সে লক্ষ্য রাখবে যে তার সন্তানটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন আছে কিনা, সে আনন্দিত কিনা, স্বাস্খ্যবান কিনা এবং ভালোবাসা পাচ্ছে কি না। তবে সে হয়তো যতবার শিশুটি কাঁদবে ততোবারই কোলে তুলে নেবে না, কিংবা তাকে নিয়ে অযথাই হুলুস্খূল পাকাবে না কিংবা নিরাপদে রাখার ব্যাপারে বাহুল্য করবে না। তবে তার সন্তানেরা প্রচুর উষä আর আবেগী চুম্বন এবং আলিঙ্গন ঠিকই পাবে। এপ্রিলে জন্ম নেয়া মেষ জাতিকা জাদুর সৃষ্টি সেই বুড়ো মানুষ যে সবসময় ঝামেলা পাঁকাতে ওস্তাদ। তার কথা সন্তানটিকে বিশ্বাস করতে শেখাবে। সে তার শিশুকে পার্কে হাঁটাতে নিয়ে গেলে পরীদের ফেলে যাওয়া জ্বলজ্বলে গলার হারগুলো তার শিশুকে দেখাবে, অবশ্য অন্য কেউ হলে দেখতে পেতো শুধু ভোরের ভেজা ঘাসের উপর শিশিরের ঝিকিমিকি। মেষ নারীরা তাদের শিশুদের জন্যে কল্পনার একটা জাদুর রাজ্য গড়ে দেয়। আর এই রাজ্যতে তারা নিজেরাও বসবাস করে। সে অনুমতি দেবার ব্যাপারে ততটা উদার নয়। তার শিশুদের সে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা চর্চা করাবে। এবং খুব সৌভাগ্যবান সে এই ব্যাপারে যে তার শিশুরা বড় হয়ে ঠিকই আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। শিশুদের মনস্তত্ত্বের ক্ষেত্রে তার অস্ত্রগুলো হলো: একটা কাঠের দণ্ড, ঘুমাবার কালে কল্পকাহিনী আর শুভরাত্রি চুম্বন।

এই নারী মারাত্মকভাবে বদমেজাজী, এবং খুবই ভয়ঙ্কর কিছু দৃশ্যের উৎপত্তিও বিচিত্র কিছু নয়। কিন্তু দ্রুত জ্বলে ওঠা রাগটা তার গ্রীষ্মের বৃষ্টির শিলাখণ্ডের মতোই দ্রুত পানি হয়ে গলে যায়। সে কখনই রাগটা জিইয়ে রাখবে না, কিংবা প্রতিশোধ নিতে চাইবে না, কিংবা আত্মকরুনা করে নিজেকে ঠাণ্ডাও করতে চাইবে না অথবা বিতৃষäাতেও ভুগবে না। একটা আবেগী ঝড়ের পর তার আশাবাদী এপ্রিল-স্বভাবটা একটা রংধনুর মতোই বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই ফিরে আসবে। অনেকেই বলবে যে মেষ নারীরা একদমই বরং পুরুষালী। আপনি আবার সে কথায় কান দেবেন না যেন। তার উপরের জ্বলন্ত আর পরাক্রমশালী খোলসের নিচে একদমই একজন নারী লুকিয়ে আছে। সে বরং একজন সাধারণ পুরুষের জন্য একটু বেশিই মেয়েলীপনার অধিকারী। কিন্তু ঝলমলে বর্ম পরিহিত একজন যোদ্ধা নিশ্চয় কোন গড়পড়তা পুরুষ নয়। কোন একাকী, সাহসী যোদ্ধা কি আছে কোথাও? তাহলে এই আপনার স্বপ্নের রাজকন্যা, বধ করুন যতগুলো ড্রাগন আপনাকে বধ করতে হোক না কেন, তারপরও আপনিই লাভবান হবেন।

তার হাসিটি উজ্জ্বল এবং সাহসী হলেও ভুলবেন না যে সে অল্পতেই কষ্ট পায়। (তার সাহসীর ভূমিকাটা শুধুই কষ্ট থেকে বাঁচবার একটা ঢাকনা)। আপনি যদি একটা মেষকে ভেড়া বানাতে চান তো আপনার প্রয়োজন এই নারীকে যে সৎ এবং অনুরাগী, বিশ্বস্ত এবং প্রাণবন্ত - যদিওবা সে আবেগপ্রবণ, প্রভুত্বপরায়ণ এবং আত্মনির্ভরশীল। যাইহোক, আপনিতো আর একসাথে সবকিছুই পেতে পারেন না। মেষনারী আপনার প্রাণচঞ্চলতা ফিরিয়ে দেবে, আর আপনার স্বপ্নগুলোতে তার আগুনঝড়া বিশ্বাস রয়েছে। আপনার নেই? তার কিছু স্বপ্নকে ধার নিন। সে আপনার উপর যতটা আস্খা রাখে তার অর্ধেকটাও যদি আপনি তার উপর রাখতে পারেন তো আপনারা দুজনে মিলে একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েও তো ফেলতে পারেন।
avatar
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 806
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum