Melbondhon
এখানে আপনার নাম এবং ইমেলএড্রেস দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন অথবা নাম এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন
widgeo

http://melbondhon.yours.tv
CLOCK
Time in Kolkata:

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সাধারন বৈশিষ্ট্য

View previous topic View next topic Go down

মেষ (২১ মার্চ - ২০ এপ্রিল ) : সাধারন বৈশিষ্ট্য

Post by Admin on 2013-08-04, 21:09

আপনি কি এমন কারো সাথে পরিচিত হয়েছেন যিনি অত্যন্ত বন্ধুবৎসল, যার স্বভাবে কাঠিন্য, হাতের ঝাকুনি অতীব দৃঢ় এবং চকিতেই হাস্যউৎফুল্ল? তুঁত গাছের ঝোপ ধরে ওলোট-পালট দৌড়ের জন্য প্রস্তুত হোন। আপনি হয়তোবা একজন মেষের সংস্পর্শে এসেছেন - আপনি যদি কথোপকথনে আধিপত্য বিস্তারে বেগ পেয়ে থাকেন তাহলে সে যে মেষ সেটা আরও স্পষ্ট হয়। সেই ব্যক্তি কি বিশেষ কোন আদর্শবাদী কার্যকারণের প্রতি নিবেদিত এবং সে কি কোন অবিশিষ্ট চিন্তা কিংবা শ্রেণীর প্রতি সমর্থনের ক্ষেত্রে একটু বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে? সেটাই হয়। পুরুষ কি নারী, এই গোত্রের মানুষ সকল অবস্খানেই যা কিছু তাদের অনুভূতির প্রতি অন্যায্য তার বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন এবং তারা তাদের মনোভাবের ব্যপারে লাজুক নন। মেষ ব্যক্তি একজন ট্রাফিক পুলিশ কিংবা একজন সশস্ত্র গ্যাংস্টারের সাথে একই জোড়ে এবং একই রুক্ষতার সঙ্গে কথা বলবেন যদি তাদের কোন একজন তাকে বিরক্ত করে থাকেন। পরবর্তীতে মেষ ব্যক্তি হয়তো তার কাজের জন্য অনুতপ্ত হবেন, কিন্তু সাবধানতাও তাকে উত্তপ্ত মুহূর্তটাতে বিরত করতে পারবে না। মঙ্গল জাতকেরা যে কোন ক্ষেত্রেই খুবই সৎ এবং সাহসীভাবে যে কোন অবস্খার মোকাবিলা করে, তাদের মধ্যে লুকোচুরি কিংবা ভূমিকা অনুপস্খিত।

রাশিচক্রের প্রথম রাশিটিই মেষ। এটা প্রতিফলন করে জন্মকে, যেমন মীন হলো মৃত্যু এবং আত্মিক সচেতনতার প্রতীক। মেষ শুধুই তার নিজের ব্যাপারে সচেতন। রাশিচক্রে মেষ এক শিশু, নবজাতক শিশু - সম্পূর্ণভাবে সে তার নিজের চিন্তাতে মগ্ন। তার কাছে তার প্রয়োজনীয়তাটাই মুখ্য। একটি নবজাতক কখনই তার পিতা-মাতা কিংবা পাড়া-প্রতিবেশীর ঘুমের চিন্তা করে না; যখন তার ক্ষুধা লাগে, কিংবা নিজের কাপড় নষ্ট করে তখন সে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করে। সে তার খাবার চায়। সে চায় কেউ তার ডাইপার বদলে দিবে, এবং এ ব্যাপারে সে ঢিলেমিটাও সহ্য করবে না। কোন মেষ জাতকের মনে নতুন কোন ভাব বা পরিকল্পনার উদয় হলে সে তাৎক্ষণিক সেটা প্রকাশ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সে হয়তো কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা সংকোচ ছাড়াই আপনাকে ভোর চারটায় ফোন করে বসবে। তার চিন্তায় তখন শুধু একটাই ব্যাপার - “আমিতো জেগে আছি, তাহলে আমার পরিকল্পনা শুনবার জন্যে সে কেন এখন জেগে থাকবে না?” এবং মেষের চরিত্রের এই ব্যাপারটাই তার সহায়ক। সে যেটা চায়, সে সেটা পায়। শিশুদের মতোই মেষেরাও ভাবে জগৎটা শুধু তাদের জন্যই তৈরি। যাইহোক, কে একটা ছোট শিশুকে প্রকৃতপক্ষেই স্বার্থপর বলে বিবেচনা করে বসবেন? সেওতো তার হাসি অনায়াসে এবং অক্লেশে সেই মানুষটিকে উপহার দিতে প্রস্তুত যে তার চাহিদা পুরণে ভূমিকা রাখে। একটা শিশুকে নিবৃত করা খুবই কঠিন কাজ, কেননা শিশুটি তার কোন চাহিদা বা কাজের পেছনে অন্যের যে কিছু ক্ষতি হতে পারে সে ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ থাকে। মেষের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। মেষের নিষ্পাপ চিন্তা তার আগ্রাসী মনোভাবকে নরম করে তোলে, ঠিক যেমনিভাবে একটি শিশুর নিষ্কলুষতা তার স্বার্থপরতাকে মলিন করে দেয়।

এই অদ্ভুত সারল্যের গুণে মেষ জাতকেরা খুব সাহসী হন। শিশু কোন ব্যক্তি বা বস্তুকেই ভয় পায় না যতক্ষণ না সে ঐ ব্যক্তি বা বস্তু থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আবার আঘাতপ্রাপ্ত হলেও, ব্যাপারটা ভুলে গেলে সে আবারও আগের মতো আস্খা নিয়েই একই বস্তু বা ব্যক্তির দিকে অগ্রসর হয়। মেষ জাতকেরা তাদের সমগ্র জীবন এই রকম সারল্যের মধ্যেই থেকে যান। এই অদ্ভুত সারল্যের গুণে মেষ জাতকেরা খুব সাহসী হন। শিশু কোন ব্যক্তি বা বস্তুকেই ভয় পায় না যতক্ষণ না সে ঐ ব্যক্তি বা বস্তু থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আবার আঘাতপ্রাপ্ত হলেও, ব্যাপারটা ভুলে গেলে সে আবারও আগের মতো আস্খা নিয়েই একই বস্তু বা ব্যক্তির দিকে অগ্রসর হয়। মেষ জাতকেরা তাদের সমগ্র জীবন এই রকম সারল্যের মধ্যেই থেকে যান। তারা তাদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, এবং যতবারই ব্যর্থ হন তাদের মনোরথে, তারা আবারও একই উদ্দীপনা নিয়ে চেষ্টায় লিপ্ত হন। যদিওবা তাদের জীবনে মাঝে সাঝে সন্দেহের উদ্রেক হয়, সেই সন্দেহটুকুও অদৃশ্য হয় যেই কিনা তারা অন্য এক ব্যক্তির দেখা পান, যে ব্যক্তি তাদের প্রতি দয়ালু, ঠিক যেমনিভাবে একটি শিশু সেফটিপিনের খোঁচার ব্যথা ভুলে যায় যখনই তার ব্যথার স্খানে কেউ মলম দিয়ে দেয়।

মেষ জাতকেরা এটা ওটা অনেক কিছুকেই বিশ্বাস্য করে তুলতে পারে, তারা সুন্দর অনেক স্বপ্নের জালও আপনার মধ্যে জন্ম দিতে সক্ষম, কিন্তু তারা শিশুসুলভ মিথ্যা আশ্বাসটিও দিতে অক্ষম। আপনি আপনার সমুখে যা দেখছেন একজন মেষ জাতক ঠিক ততটুকুই। তার কোনকিছুই গোপন নয় বা জটিল নয়। সে একটি শিশুর মতোই দুর্বল এবং অসহায়। যখন একজন মেষ জাতকের চেয়ে বেশি সক্ষম এবং মানসিকভাবে বেশি পরিপক্ক কেউ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক কোন বস্তু বা বিষয় সরিয়ে নেয় তখন মেষ জাতক সেই একটি প্রতিক্রিয়াই করে যা সে করতে জানে আর তা হলো চিৎকার চেচামেচি কান্নাকাটির মাধ্যমে চরম বিরক্তির উদ্রেক করা যার মাধ্যমে সে শান্তি খুজে ফেরে। তার কোন রুচিশীল কৌশল বা পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। তার লক্ষ্য বিশ্বাস আর আত্মকেন্দ্রিক প্রতিজ্ঞার জোরে বেশ সহজেই সে অর্জন করে নেয়। মেষ জাতকের ক্ষেত্রে হয়তোবা এ কারণেই অসহায় শব্দটা প্রয়োগ অনুচিত। তারা চরিত্রগতভাবে দুর্বল - কিন্তু অসহায়, নিশ্চয়ই নয়।

একজন মেষ জাতকের শারীরিক কাঠামো দেখে শনাক্ত করতে পারাটা খুব সহজ। মেষ জাতকদের শারীরিক অবকাঠামোটা স্খির, প্রায়শই তীক্ষî, অবশ্য মাঝে সাঝে নম্র এবং অস্পষ্ট। প্রায়শই তাদের স্পষ্ট ভুরুযুগল নাকের মাঝে এসে মিলিত হয়ে যায় এবং মেষের চিহ্নটা তৈরি করে। এবং তাদের ভুরু দিয়ে তৈরি এই শিং-স্বরূপ চিহ্নই যেন একটা সতর্ক বাণীর মতো। অন্য যারা মেষকে জয় করতে চায় কিংবা মেষের মতের বিরুদ্ধে কিছু বলতে চায় তাদের আগেই সাবধান করে দেয় যে মেষ নিজেই বোঝে। মেষ জাতকদের মাথায় বা মুখে ছোট তিল কিংবা দাগ থাকতে পারে। তাদের চুল সূর্যের আলোয় কিছুটা লালচে দেখায়। এবং তাদের গায়ের রং সাধারণের থেকে একটু বেশি উজ্জ্বল বা গাঢ় হয়ে থাকে। তাদের চারিদিক থেকে অদৃশ্য একটা ঝলকও অনুভব করা যেতে পারে। তার চলাচলটা সাধারণত দ্রুত এবং সাবলীল, এবং সেখানে তাদের দৃঢ় মানসিকতার ছাপ রয়েছে। পুরুষ এবং মহিলা মেষ জাতক সকলেই চওড়া কাধের অধিকারী এবং তারা সমুখে সামান্য কুজো হয়ে হাটেন এবং তাদের দেখে মনে হয় যেন তারা প্রায় সব সময়ই খুব ব্যস্ততার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। (যেন তারা সমুখের ইটের দেয়াল ভেঙ্গে ওপারে পৌছাবেন - তাতে তাদের শিং যদি বেঁকেও যায় তো যাবে।) মেষদের ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ ব্যাপার খুব কমই আছে। তবে তাদের একটা বিশেষ ক্ষমতা হলো তারা যে কোন সমস্যা খুব ধীর-স্খির মোকাবেলা করতে সক্ষম (তাদের এই গুণ সবসময়ই সেই মানুষগুলোকে হতভম্ব করে তোলে যারা মেষ জাতকদের তাচ্ছিল্য করে থাকেন)। মেষদের অস্খিকাঠামো বেশ মজবুত, শুধু অল্প কিছু মেষ জাতকই দুর্বলগোছের হয়। তাদের দেহভঙ্গিমাই বলে দেয় তাদের আত্মগরীমা এবং আত্মবিশ্বাসের কথা। আপনি যদি কোন মেষ জাতকের কাঁধটাকে ঝুলঝুলে দেখেন তাহলে বুঝে নিবেন যে সেই মেষ জাতকটি একজন ভেড়ায় পরিণত হয়েছেন - এর অর্থ এই যে তার যৌবনে সে তার আত্মঅহংকারে চরম আঘাত পেয়েছেন। আঘাতটা যদি গভীর হয়ে থাকে তবে এই আঘাত থেকে সেরে উঠতে প্রচুর সময় লাগবে তার, তবে এ কথা বলা যায় যে তিনি একদিন এ আঘাত ভুলে আবার মেষ হয়ে উঠবেন। কোনকিছুই এই গোত্রের মানুষকে নিচে নামিয়ে রাখতে পারে না - ব্যর্থতাতো আরও নয়।

মঙ্গল-নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তি সরাসরি আপনার চোখে তাকাবে তার সংকোচহীন সততা এবং কিছুটা স্পর্শকাতর আস্খা নিয়ে। আপনি তার বন্ধু - ঠিক না? আপনি তাকে পছন্দ করেন? ঠিক? ঠিক না? না হলে অশ্রু গড়াতে শুরু হয়ে গেছে, অবশ্য ভেতরে ভেতরে। যতক্ষণ সে পারবে সে কখনই এটা প্রকাশ করবে না। যদি আপনি কখনও তাকে সামনাসামনি কান্নাকাটি করতে দেখেন তাহলে নিশ্চিত বুঝবেন যে তার খুব গভীরে আঘাতটা লেগেছে। মেষেরা বরং মৃত্যুকেই বেছে নেবে কিন্তু কখনই অন্যের সমুখে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করবে না। এবং তাদের কেউ কেউ পরেরটি থেকে বাঁচতে আত্মহত্যার পথও বেছে নিতে দ্বিধা করেন না।

মেষ জাতকেরা কখনও কখনও হয়তো ঘরের চারপাশে চকিতে তাকিয়ে নেয়, এবং যদি তাদের মধ্যে এ ব্যাপারটা লক্ষ্য করেন তবে বুঝে নিবেন সে আর আপনার সঙ্গে এখন কথা বলতে আগ্রহী নন। তার মনে এখন অন্যকিছু ঢুকেছে, এবং আপনাকে সে এই মুহূর্তটাতে ভুলে গেছে। আপনারও একই কথা? কিন্তু আহত হবেন না। মনে আছে শিশু এবং তার মানসিকতা? নিশ্চিত করে বলা যায় যে একজন মেষ তার পছন্দের পেশায় সবচে বড় স্খানে অবস্খান করবে অথবা সে নিজের ব্যবসা চালু করবে। যদি সে তার বৃত্তিতে সবচে বড় পদটিতে না থাকে তাহলে আপনি তাকে তার অতৃপ্তি দেখেই বুঝতে পারবেন যে অন্যের অধীনে সে স্বেচ্ছায় কোনভাবেই আসে নি, বাধ্য হয়েছে। আপনি মেষ জাতকের মধ্যে খুজে পাবেন উদার ভাবভঙ্গি, সময় এবং পার্থিব বস্তুর ক্ষেত্রে অতিমাত্রার মহানুভবতা এবং নেতৃত্ব দেবার ব্যপারে এক ধরনের উন্মুক্ত ইচ্ছা। কিন্তু মেষ জাতকের মধ্যে সূক্ষ্মতা, কৌশলপরয়ণতা অথবা বিনয় খুজতে যাওয়াটা বোকামী। বেশিরভাগ মেষ জাতকেরাই এইসব গুণগুলো যখন স্বর্গের দরজা দিয়ে বের হয়ে গিয়েছে তখন দরজার পেছনেই আটকা পড়েছিলেন। মেষ জাতকদের ধৈর্য্যশক্তিটাও একটু কম। কোন কফি শপে মেষজাতক হয়তো বাসি স্যান্ডউইচের তীব্র সমালোচনা করার সাথে সাথে চপট ওয়েট্রেসকেও সমালোচনায় জর্জরিত করে বসবেন, আবার ভালো পরিবেশন হলে এই মেষ জাতকই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি টাকা বখশিশও দিয়ে আসবেন।

সহজভাবে বললে মেষ জাতকেরা খুবই সরাসরি গোছের মানুষ। জটিলতা, প্রতারণা, ঠকানো ইত্যাদি মেষ জাতকদের বিষয় নয়। মেষজাতকেরা বেশ খোলামেলা মেজাজের এবং চিত্তাকর্ষী সততার অধিকারী হওয়া স্বত্ত্বেও বড় অংকের আর্থিক ঝুঁকি তেমন একটা নেন না। এদের মধ্যে কিছু আবার ঠিক স্খির নন এবং তাদের মধ্যে শিশুদের মতোই নির্ভরশীলতা বা দ্বায়িত্বশীলতার অভাব লক্ষ্য করা যায়। এমনকি মেষদের মধ্যে যারা একটু ধীরস্খির প্রকৃতির তারাও তাদের মাথার ভিতর সার্বক্ষণিক বহমান নতুন কোন চ্যালেঞ্জের উত্তেজনায় উতলা হয়ে ঋণের কথা ভুলে যান এবং নতুন চ্যালেঞ্জটিই তখন তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। একজন মেষ আপনার টাকা আপনাকে অবশেষে হাস্যউৎফুল্লচিত্তে এবং স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়ে দেবে কিন্তু ততদিনে আপনার অবস্খা হয়তো করুণ হয়ে উঠবে।

যদিও মেষজাতকেরা জ্বলন্ত শোলা, তারা তাদের জীবন অত্যন্ত সাহসিকতা, কর্মউদ্দীপনা আর উদ্যোগের সাথে যাপনে অভ্যস্ত তারপরও তাদের সাহসী চরিত্রগুণেও একটা অদ্ভুত দুর্বলতা রয়েছে। যদিও মেষজাতকেরা দুষ্টু তুষারমানব কিংবা ফন্সাংকেনস্টাইনের ভূতকে বিন্দুমাত্র বিচলিত কিংবা ভীত না হয়েই মোকাবেলা করবে কিন্তু তারা শারীরিক কষ্ট একদমই সহ্য করতে পারে না। মানসিক বিচারে মেষ মোটেও কাপুরুষ নয় কিন্তু যা কিছু শারীরিক কষ্টের উদ্রেক করে সেসব ক্ষেত্রে একজন মেষ খুবই মেয়েলীপণাসম্পন্ন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন ডেন্টিস্ট কখনই মেষজাতকদের প্রিয়মানুষের লিস্টে থাকবে না।

প্রত্যেক মেষই জীবনের কোন না কোন সময়ে তার অপরিণামদর্শী স্বভাবগুণে এমনকিছু করে বসবে যার কারণে তাকে মাথায় কি মুখে একটা আঘাত পেতে হবে। কাঁটা, কিংবা পোড়ার ক্ষতও বিচিত্র নয়। কিডনির সমস্যা থেকে উদ্ভুত হয়ে প্রচণ্ড মাথাব্যথা এমনকি মাইগ্রেনের ব্যথায়ও তারা আক্রান্ত হতে পারে। মেষদের জন্য ভালো হয় যদি তারা নিজেদেরকে শক্ত করে এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে অবহেলা না করে সেই অপ্রিয় দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে, নিজেদের চোখের যত্ন নেয়, ডায়েটের প্রতি যত্নশীল হয় এবং মাথায় ঠাণ্ডা লাগলে তার তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্খা করে। মেষদের উচিৎ মদ্যপান থেকে বিরত থাকা (মদ্যপান তাদের কিডনির জন্যও খারাপ আবার যদি মঙ্গলের প্রভাবে থাকে তবে সেটা প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া কিংবা প্রদাহের জন্ম দিতে পারে)। ত্বকে ফুসকুড়ি, হাটুতে ব্যথা এবং পাকপ্রণালীর সমস্যাও মেষদের যারা মার্চের শেষে কিংবা এপ্রিলে জন্মেছেন তাদেরকে পেয়ে বসে। মেষদের শারীরিক কাঠামো খুবই মজবুত এবং শক্ত থাকে, যদি না তারা তাদের শরীরটাকে নষ্ট করে। তারা অবশ্য স্বাস্খ্যের প্রতি অবহেলা করে স্বাস্খ্যটাকে নষ্ট করতেই অভ্যস্ত। আপনি যদি মেষকে কখনও শয্যাবদ্ধ অবস্খায় দেখেন আর যদি তার মধ্যে কম কথা বলার লক্ষণ দেখেন তাহলে বুঝে নেবেন যে মেষটি সত্যই অসুস্খ। এবং এ অবস্খাতেও তাকে বিছানায় শুইয়ে রাখতে হাতকড়ার প্রয়োজন হওয়া বিচিত্র নয়। সাধারণ গড়পড়তা মানুষ যে জ্বরে মরেও যেতে পারে সেই পরিমাণ জ্বর একজন মেষ বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারেন। মেষদের মধ্যে বেশ কিছু আবার তাদের দৃঢ় মানসিক দৃঢ়তার জোরে যে কোন প্রতিকুলতার সাথে প্রতিকুল সময়ে এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয়লাভে সক্ষম হয়। রাগপূর্ণ অধৈর্য এবং হতাশাই মেষের শারীরিক অসুস্খতার কারণ। চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং অবহেলাই মেষকে অসুস্খতর করে দেয়। সচেতনভাবে ধৈর্য ধরার চেষ্টা করে স্বেচ্ছায় সচেতনতার সাথে অসুস্খতার খেয়াল রাখলে ডাক্তারের কাছে যাবার প্রয়োজন হবে না। এমন নয় যে মেষ এই উপদেশ মেনে নেবে, সে বরং বছরের পর বছর ডাক্তার থেকে দূরেই থেকে যাবে যতদিন পর্যন্ত না সে সত্যই কোন অসুস্খতার কাছে ধরাশায়ী হয় কিংবা এমন একটা বয়সে পৌছায় যখন তার মধ্যে স্বাস্খ্য নিয়ে সচেতনতার সময় হয়। মেষদেরকে নিয়ে মাদকাসক্তির ভয় তেমন একটা নেই। সাধারণত, মেষ ঘুমাবার জন্য বড়ি খেতেও নারাজ। সে বরং জেগেই রাত কাটাবে। (তার ভয় যে ঘুমিয়ে থাকলে সে হয়তো কোন একটা ভালো সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।)

নিজের জোরালো ইতিবাচকতার বলে মেষ (এবং অন্যান্য অগ্নি রাশি যেমন সিংহ এবং ধনু) খুব কমই দীর্ঘস্খায়ী বা স্খায়ী রোগে আক্রান্ত হয় - যেটা জ্যোতির্বিজ্ঞান সবসময়ই চর্চা করতে বলে আসছে। এদিকে মেডিকেল সায়েন্সও এখন এটা বুঝতে পেরেছে যে দীর্ঘস্খায়ী রোগবালাই বিষণíতা এবং আশাহীনতা থেকেও উদ্রেক হয়ে থাকে। অগ্নি রাশিগুলোর জাতকেরা তাদের ইতিবাচকতার জোরে প্রচণ্ড জ্বর, ঘা, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি খুবই মারাত্মক কোনো রোগ অন্যান্য রাশির জাতকদের তুলনায় ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারে। মেষদের অপরিণামদর্শীতার ব্যপারে আপনি কিই বা করতে পারেন, তারা কোন কাজের অন্ধকার দিকটা খুব কমই বিবেচনায় রাখেন। মেষ জাতকদের বুকে যদি কোনভাবে বিষাদগ্রস্খতার বীজ বোপন করা যায়ও তারপরও সে বীজ খুব দ্রুতই মরে যাবে। কিন্তু মেষের বদ্ধমূল ধারণা যে তার চে ভালো করে অন্য কেউ কোন কাজ করতে সক্ষম নয়। এই বদ্ধমূল ধারণার কারণে তাকে অবশেষে অনেক ভোগান্তিতেই ভুগতে হয়। সে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী সাহস এবং আত্মবিশ্বাসের সাথেই সমুখে এগুবে, কিন্তু এটা মনে রাখবে না যে সে নিজেই নিজের ক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এবং অবশেষে আলসার কিংবা নার্ভাস ব্রেকডাউনে আক্রান্ত না হয়ে তার শান্তি নেই। অবশ্য মেষকে কেউ কখনও অলস বলে অভিযোগ করবে না।

চরিত্রগতভাবে সরল হবার কারণে মেষ জাতকদের পক্ষে কোনো ছল চাতুরি কৌশল অবলম্বন করা অসম্ভব। একজন মেষজাতক যাকে আমি বেশ ভালোভাবেই চিনি তার আগ্নেয় এবং ছোঁয়াচে উৎসাহের প্রাবল্যের কারণে। সেই ব্যক্তি তার একটি মৌলিক ধারণা বা পরিকল্পনার বাস্তবায়নের জন্যে আর্থিক সহায়তার আশ্বাশ পেলেন এক ব্যক্তির কাছ থেকে। যেই না তাদের দুজনের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে আর মেষ জাতকটিও তার সবচে প্রিয় স্বপ্নটির বাস্তবায়ন এবার সত্যই বাস্তব হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে, অমনি আর্থিক সহায়তা দানকারী ব্যক্তিটি বললেন যে একজন দক্ষ এবং অভিজ্ঞ মানুষ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে। মেষ ব্যক্তিটি নিশ্চিত ছিলেন যে তার চে ভালো করে অন্য কেউ এ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করতে পারবে না। এবং তার মন সংশয়পূর্ণ ছিল এই ভেবে যে অন্য আরেকজন এই কাজে জড়িত হলে তাকে হয়তো ঐ ব্যক্তির হুকুম শুনতে হবে। এই কারণে মেষ জাতক দ্রুততার সাথেই তার প্রতিক্রিয়া মেষদের চিরাচরিত বিনয়ের সাথেই ব্যক্ত করলেন। তিনি তার জ্বলন্ত সিগারেটটা আকাশে অহংকারের সাথে ছুড়ে দিলেন এবং রুক্ষভাবে ঐ আর্থিক সহায়তা দানকারীকে প্রশ্ন করলেন - “আপনি কীভাবে ‘না’ শুনতে চান? দেরি করে না দ্রুত?” আর্থিক সহায়তা দানকারী ব্যক্তিটি নিজেকে গুটিয়ে নিলেন তৎক্ষনাৎ, আর বেচারা মেষ জাতকও ‘বিজনেস লেপ্রসি’ রোগে আক্রান্ত হলেন। পরবর্তী বেশ কিছু হতাশাব্যঞ্জক মাসে এই কাজে অন্য যারা তার পেছনে ছিল তাদের প্রত্যেকেই তার ফোন পেলে হয় লাঞ্চে ব্যস্ত ছিলেন নতুবা ভ্রমণে ছিলেন।

একটু চতুর কৌশলের অবলম্বন হয়তো ঐ মেষজাতকের স্বপ্নটাকে ধ্বংস না করে বাঁচিয়ে তুলতো। কিন্তু একজন গড়পড়তা মেষের বহুবছর লেগে যায় এই রকম চাতুর্যের কৌশল অবলম্বনে পারদর্শী ডিন রাস্কের মতো মেষ হয়ে উঠতে। আবার ডিন রাস্কের মতো যে সব মেষজাতকেরা প্রচুর কষ্ট এবং ধৈর্য স্বীকার করে বড় কোন পর্যায়ে নিজেদেরকে অধিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছেন তারা ঐসব মেষজাতক যারা খুব অল্প অভিজ্ঞতা নিয়েও মনে করে যে তারা অনেকের থেকে বেশি জানে তাদেরকে কিছুতেই মেনে নিতে পারেন না। একজন মেষজাতক তখনই বিনয় এবং নম্রতা শিখে যখন সে প্রচুর বড় বড় ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়। কিন্তু একবার যখন সে জীবনের কাছ থেকে এগুলো শিখে নেয় অমনি সে একটা প্রকল্পকে তার নতুন নতুন চিন্তা এবং পরিকল্পনা, এবং প্রজ্ঞার মাধ্যমে সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে তেলকূপের মতো লাভজনক করে তুলতে পারে। একজন মেষ তার উপরে পদস্খ কর্মকর্তা কিংবা যারা তার থেকে নামীদামী কি যোগ্যতায় কি টাকায় তাদেরকে উপযুক্ত সন্মান প্রদর্শন করলে একসময় নিজেও নেতৃত্বের স্বাদ পাবে, আর সফলতাও হবে বেশ রোমাঞ্চকরভাবে বড় ধরনের। অদ্ভুত হলেও সত্য যে বেশিরভাগ মেষ জাতকেরাই নিজের জন্য অর্থ সঞ্চয় না করে অন্যের জন্য করে। অনেক মেষজাতকই সারাজীবন ভাড়া বাসায় থেকে যান কিন্তু নিজের বাড়ি তারা খুব কমই তৈরি করেন। টাকা পয়সা না থাকলেও মঙ্গলের জীবনী শক্তি যেন কমেনা, এর কারণ হয়তো বা এই যে মেষ জাতক সবসময় যা খুজে বেড়ায় সেটার গন্তব্য হয়তো সর্বক্ষেত্রেই কোন ব্যাংক নয়।

যদিও মেষ জাতকেরা নিজেদেরকে আস্খা এবং আত্মবিশ্বাসের সাথে সমুখে ধাবিত করে, অন্যদের কথা বিবেচনা না করেই এবং তার আচার-আচরণ, বিশেষত যৌবনে সব ক্ষেত্রেই তাদের বদ্ধমূল ধারণা হলো ‘আমিই প্রথম’। সবকটি রাশির মধ্যে মেষই সবচে বেশি উষä এবং মহৎ হতে পারে। সে নিষ্ঠুর নয়। সে শুধু আন্তরিকভাবে এইটুকু বিশ্বাস করে যে, সে অন্যদের থেকে যে কোন কিছুই বেশি দক্ষতার সাথে করতে পারে। অন্য কেউ কোন ব্যাপারে ব্যর্থ হচ্ছে এরকম দেখলে সে সেটা কেবল দাড়িয়ে থেকে দেখতে মানসিকভাবে অক্ষম, সে ঐ কাজটাতে অংশ নেবেই। তাকে যদি আপনি টাকা-পয়সা আর সম্মানের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে বলেন তো সে পরেরটিকেই বরং বেছে নেবে। সে হয়তো আর দশজনের মতোই টাকা-পয়সার জন্য পাগল কিন্তু সে আবার একটু প্রশংসা আর খ্যাতি পেলে সবই ছাড়তে পারে। মেষদের একটা ক্ষমতা হলো তারা তাদের উচ্চপদস্খদের অনুপস্খিতিতেও তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। মেষ অন্যকে নিয়ে প্রহসন এবং ভীষণ রুক্ষভাবে সমালোচনা করে থাকে। মেষদের রাগ শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে জেগে ওঠে আবার সাধারণত এটা তার রাগের শিকার ব্যক্তি জানবার আগেই পড়ে যায়। বরং সেই শিকার মেষ জাতকের শিশুসুলভ হাসিটাও শীঘ্রই পেয়ে যান। এক্ষেত্রে কেউ হয়তো সেই আবেগতাড়িত মেষ নিকিটা ক্রুসচেভের নাম নেবার লোভ সংবরণ করতে পারবেন না। এই নিকিটা শিশুসুলভ রাগে আক্রান্ত হয়ে তার জুতো দিয়ে জাতিসংঘের টেবিলের উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন, তার মাথায় তখন এটা নেই যে টিভি দর্শকরা তাকে দেখছে এবং কারোর কোন ভুল হবার অপেক্ষায় তারা রয়েছে। নিকিটার ঐ কাজ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। আর মেষজাতকদের দোষ এড়িয়ে যাওয়া হয় বলেই তারা কৌশলের আশ্রয়ী নন। কিন্তু এই একই মেষজাতক সত্যই খুব কষ্ট পেয়েছিলেন যখন তিনি ডিজনিল্যান্ডের মনোমুগ্ধকর ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন।

মঙ্গল প্রভাবের জাতকেরা খুবই বাজে মেজাজের মানুষ - এ অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়। এটা সত্য। কিন্তু এটাও সত্য যে তারা রাগ ধরে থাকতে পারে না। আর একবার এদের রাগ কমে গেলে তাদের কষ্টটাও তারা ভুলে যায়। সে বিস্মিত হবে আর আহতও হবে যদি তার কোন কথা যেটা সে শুধু রাগের মাথায় বলেছে আর আপনি তা মনে রেখে তাকে পরবর্তীতে বলেছেন। সুযোগ এলে মেষ হয়তো তার সবচে বড় শত্রুর কাছেও মাফ চাইবে। আবেগপ্রবণ হয়ে যে কথাই সে বলুক না কেন সে ক্ষমা চেয়ে নেবে। তাকে প্রচ্ছন্নভাবে এবং সরাসরিভাবেও যদি মেনে নেয়া না হয় তবুও সে চেষ্টা চালিয়ে যাবে। মেষ জাতকেরা খুব কমই ব্যাক্তিবিশেষের উপর ক্ষিপ্ত হয়। আপনি হয়তো বাক্যবাণে বিদ্ধ হবেন তবুও দেখবেন যে মেষ জাতকের প্রকৃত রাগটা আসলে কোন একটা বিশেষ ধারণা কিংবা অবস্খার প্রতি যেটা সে কোনভাবেই সহ্য করতে পারছে না।

মেষ জাতকেরা অবশ্য ছোটখাট সাদামাটা মিথ্যা বলে বসতে পারে যদি সেটা তাকে বা তার কোন প্রিয় প্রশংসার ব্যক্তিকে কোন অপবাদ কিংবা হীন অবস্খা থেকে বাঁচাতে ভূমিকা রাখে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিথ্যাচার মেষজাতকদের খুব কমই উপকারে আসে, যেটা অবশ্য সৌভাগ্যই বলতে হবে, কেননা বেশিরভাগ সময়ই সে মিথ্যা বলে ধরা পড়ে যায়। রুক্ষ সততা সবসময়ই দ্রুততা চায়, আর যেহেতু মেষদের প্রধান লক্ষই হলো চটজলদি আসল কথায় যাওয়া তাই সে সত্যাশ্রয়ী। অযথা নানান কাহিনী ফেদে বসা মেষের কর্ম নয়। আর মেষ নিজেকে তুলে ধরতেই এতো ব্যস্ত যে অন্যের কেমন স্বভাব বা অভিরুচি এসব নিয়ে আলাপচারিতায় সময় নষ্ট করার সময়টা তার নেই। তাছাড়া, মানুষ তার কাছে হয় সাদা নয় কালো। মাঝারি কোন রঙ নিয়ে চিন্তাটা তাই সে করে না। কিন্তু এটাকে আবার তার অল্প জ্ঞানের সংস্কার ভেবে ভুল করবেন না। একজন মেষ কেবল তখনই নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে যদি তার উপর প্রবল গ্রহ নক্ষত্রের যোগ থাকে; কিন্তু এরকমটা খুব কমই হয়। বস্তুত একজন সাধারণ মেষজাতক রাজা কি রাস্তার ফকির, উভয়ের সাথেই একই স্বস্তি, আরাম এবং সৎ ভালোবাসার সাথে আহার করতে সক্ষম। প্রেজুডিস বলে মেষদের যে অপবাদ রয়েছে সেটা তার স্বভাবের কারনে। তার স্বভাব হলো সকল মানুষকে দুটি শ্রেণীতে বিভক্ত করা, এক শ্রেণীতে তার মিত্র অন্য শ্রেণীতে তার শত্রু। আর আপনি যদি মেষের বন্ধু হন তবে আপনাকেও সে একই ভাবে মানুষকে চিহ্নিত করতে বলবে।

মেষদের কষ্টদায়ক সমুখচারীতা স্বত্ত্বেও তারা সামাজিক আশীর্বাদের সর্বোচ্চটাও পেতে পারে। সে যে বিষয়ে কিছুই জানে না সে বিষয়েও ঘন্টা যাবৎ সাবলীল ও মজাদারভাবে বলে যেতে পারে। মেষদের আগ্রাসীতার কারণ হলো মঙ্গলের প্রভাব, আর এটা কাটাতে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে ঘষামাজা। কোন ব্যাপারে বিশদভাবে চিন্তা করবার ধৈর্যটা তার কাছে অবান্তর। সে বরং ছোটখাট এবং সস্তা ব্যপারগুলো অন্যের হাতে দিয়ে দেবে। সেটাই তার জন্য যুক্তিযুক্ত। অন্য কেউই এগুলো অনেক ভালোভাবে গুছিয়ে নিতে পারবে। কোন ব্যপার বা ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া মেষের কাজ নয়, কেননা মেষের কাছে অতীতের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেয়া মূল্যহীন, ভবিষ্যৎটাও ভাবনা করবার মতো অবস্খান থেকে যেন বহু দূরে।তার বসবাস বরং বর্তমানে। এই ঘন্টায় এবং এই মিনিটে। সে সম্পূর্ণই বর্তমান মুহূর্তের সাক্ষী।

একজন বাস্তববাদী এবং একইসাথে স্খির সংকল্পের একজন আদর্শবাদী মেষ আবেগী বর্ণনাকে অবমাননা করতেই অভ্যস্ত। কেউই মেষের মতো এতো তীব্র এবং জোরালো স্বভাবের নয়। তথাপিও অল্প কেউ আছেন যারা মেষের মতোই আবেগতাড়িত এবং দু:খজনকভাবে নিস্পাপ এবং অসম্ভবে বিশ্বাস রাখেন। সরাসরি বললে মঙ্গলের প্রভাবে মেষেরা পরাজয় মেনে নিতে অপারগ। পরাজয় তাদের পায়ে এসে ঠেকলেও তারা পরাজয়কে চিনতে নারাজ। তারা অনারোগ্য ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গীর অধিকারী সেটা হোক ভালোবাসার ক্ষেত্রে কিংবা হোক বেইসবল খেলবার ক্ষেত্রে। মেষরা কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্খায় ভালো প্রতিযোগী, যেকোন লড়াই লড়ে তাদের মস্তিষ্ক দিয়ে। তারা প্রতিপক্ষের উপস্খিতি আনন্দের সাথে নেয় কেননা প্রতিপক্ষ সবসময়ই কোন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। মেষেরা যে কোন প্রতিবন্ধকতা এসে তাদের পথ আগলে ধরার আগেই সেটা জয় করতে ছুটে চলে - প্রায়শই প্রতিবন্ধকতা চরম আকার নেবার আগেই মেষরা সেটাকে প্রতিহত করে। সফলতা এসে তাদের কোলে জুড়ে বসবে এই অপেক্ষাতেও বসে থাকে না মেষরা। মেষরা সফলতা পাবার জন্যে ভীষণ জোড়ে দৌড়াতে থাকে, হয়তো এ কারণেই আপনি তাদেরকে কল্যাণকারীদের তালিকায় খুজে পাবেন না।

মেষজাতকেরা তাদের শক্তি এবং কর্মস্পৃহায় সবাইকেই ছাড়িয়ে যায়। মেষরা চাইলে তারা শান্ত, গম্ভীর এবং জ্ঞানীও হয়ে উঠতে পারে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে মেষেদের যৌবনে এটা হয়ে ওঠে না, কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে পরিপক্কতা তাদের অপরিণামদর্শী মনোভাবনাগুলো স্খির হতে থাকে এবং তারা তাদের তাড়াহুড়ো করে কোনকিছু করাটাকেও শাসন করতে পারে। তারা জনগণের থেকে খুব দ্রুততার সাথে সহানুভূতি অর্জন করে নিতে পারে, কিন্তু তা স্বত্ত্বেও তারা ভালো রাজনীতিবিদ হতে পারেন না। এক্ষেত্রে থমাস জেফারসন এবং ইউজিন ম্যাক কার্থি দুজন হলেন দুর্লভ ব্যতিক্রম। যে সব মেষজাতকেরা নিজেদেরকে রাজনৈতিক আঙ্গিনায় নিক্ষেপ করেছিলেন বা করেছেন তাদের বেশিরভাগই তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত কিংবা সংঘাতময় রাজনৈতিক জীবনের মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। ১৮৪০ এর জন টাইলারের পর কোন মেষ জাতকই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পদে আসেন নি। রাজনীতির অঙ্গনটা গড়পড়তা মেষজাতকদের জন্য দুরূহ। প্রথমত মেষেরা টাকা পয়সার লেনদেনে এবং খরচে তেমন বিচক্ষণ নয় আবার অপরিণামদর্শী বক্তব্য এবং নিরাপত্তার প্রতি উদাসীনতা মেষদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য - আর এই দুটি ব্যাপারই হলো রাজনীতিবিদদের পতনের ক্ষেত্রে মারণাস্ত্র। বেশিরভাগ রাজনীতিবিদই নিজেদের মানসিকতা জানাবার আগে জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিটা যাচাই করে নেন। কিন্তু মেষরা নিজেরাই জনগণের চাহিদা এবং মনোভাব নিয়ে নিজেদের মনে বিভিন্ন কল্পনা সাজিয়ে বসে আছেন, প্রকৃতপক্ষেই জনগণ কী চাইতে পারে সে সম্পর্কে চিন্তা করবার প্রয়োজন তার নেই। এবং তার কাছে যেটা জনগণের প্রয়োজন বলে বোধ হবে সেটা সে দ্রুতই সরবরাহ করবে কিংবা ব্যবস্খা করবে, কিন্তু সে এতটা দ্রুতই কাজটা করবে যেটা রাজনৈতিকভাবে ঠিক বিচক্ষণ বা সুবিধাজনক নয়। কিন্তু সে এতোটাই আদর্শবাদী যে যদি সে একবার জনগণের সামনে আসতে পারে তবে জনগণকে সে আবার আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারে। মঙ্গল জাতকদের সততার সজীবতা এতই বেশি যে এটা রাজনীতির ভিত্তিও কাঁপিয়ে তুলতে সক্ষম।

সাধারণত বেশিরভাগ মেষজাতকেরা যেসব ক্ষেত্রে তাদের প্রয়োজন সর্বোচ্চ সেই ব্যবসা কিংবা সৃষ্টিশীল শিল্পাঙ্গনের সাথে যুক্ত হতে পারলেই খুশি। অন্যরা হয়তো পরিকল্পনা কৌশল ইত্যাদি ক্ষেত্রে নিজেদেরকে যুক্ত করেন। অধিকতর ঠাণ্ডা মেজাজের যারা এবং যারা একটু বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন তারা হয়তো দক্ষ কোন সংস্খাপনায় ভালো করবেন। কিন্তু দ্রুত পদক্ষেপ, প্রেরণা এবং সত্যিকারের মেষসুলভতা না থাকলে তাদের দ্বারা কোন প্রকল্পে শুধুই লোকসান কিংবা যৎসামান্য লাভের মুখ দেখতে পারে। আপনি হয়তো হঠাৎ কোন এক মেষের সাথে পরিচিত হতে পারেন যে কিনা লাজুক প্রকৃতির, কিন্তু একজন যে জানেনা তার অবস্খানটা কি - এরকম মেষ আপনি কালে ভদ্রেও খুজে পাবেন না। এই ধরনের লোকের সমুখে আপনার নিজের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরা খুব দুরূহ হবে। মেষেরা অনেক বেশি সুখে থাকে যখন সে নিজেই কথা বলে এবং সেটা নিজের এবং নিজের চিন্তাভাবনা সম্পর্কেই (ব্যতিক্রমটা ঘটতে পারে যখন তারা প্রেমে পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে তখন)। আপনি যদি তার আগ্রহটা কোথায় সেটা বুঝতে পারেন এবং যদি আপনার ভাগ্যটা ভালো হয় তবেই সে আপনার আগ্রহী শ্রোতা হবে - বিশেষত যদি আপনার চিন্তা ভাবনা বা পরিকল্পনাগুলো উত্তেজনাপূর্ণ এবং গতিশীল হয়। সে আপনাকে প্রশংসায় আকাশে উঠিয়ে দেবে এবং আপনাকে তার সময়, অর্থ, সহানুভূতি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা দেবে। আপনি যদি হাসপাতালে থাকেন তো সে হয়তো আপনাকে কার্ড পাঠাতে ভুলে যাবে, কিন্তু আপনি অসুস্খ হলে সে হাসপাতালে আপনাকে পৌছে দেবে, এবং হয়তো নিজের পারিবারিক ডাক্তারের কাছেও আপনাকে যেতে বলবে। আপনার খারাপ সময়ে সে যদি একবার পাশে এসে দাড়ায় তো সে কোন দ্বিধা ছাড়াই শেষ পর্যন্ত লেগে থাকবে। কিন্তু অনুগ্রহ করে আপনার কৃতজ্ঞতা তাকে প্রদর্শন করুন। যদি আপনার জন্যে তার এই প্রচুর পরিশ্রম, যতটুকু তার দায়িত্বকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, এবং হয়তো আপনার প্রয়োজন কিংবা চাওয়ার থেকেও অযথাই বেশি ছিল - এর যথোপযুক্ত প্রশংসা না করেন কিংবা করতে ভুলে যান তাহলে সে খুবই দু:খ পাবে, ভালো যদি রেগে উন্মাদ না হয়। সে অন্যের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াতে ভালোবাসে। তবে যতই সেটা অলাভজনক হয় ততই ভালো। কিন্তু মেষ তার কর্মের প্রতিদানের ক্ষেত্রে বেশ সংবেদনশীল। যদি ধন্যবাদটা না দেন, হয়তো তারপরও সে আপনাকে সাহায্য করবে। তার নিজের উপর অবাক করার মতো আস্খা যেমন আছে তেমনি আছে সরলভাবে অন্যকেও বিশ্বাস করার ক্ষমতা। এ কারণেই সে সবসময় মনক্ষুণí হয়ে উঠে আপনাকে অভিযোগ করে না যে কেউ তাকে ছোট করেছে বা এটা সেটা। অবশ্য সে ছোট মনে সংকীর্ণ থাকার মানুষও নয়। অল্প সময়ের জন্য হলেও ভয়ঙ্কর একটা নৈরাশ্যের মধ্যে থেকে কিছুদিনেই সে আবার জেগে উঠবে, গা থেকে সংকীর্ণতার ধুলো ঝেড়ে আবার তৈরি হবে আঘাত পাবার জন্য - এই হচ্ছে মেষ।

যখন মেষেরা কোন ব্যাপারে জানে কিংবা তাদের সেটা জানা উচিৎ বলে দাবি করে বলে যে কোন একটা ব্যাপার মিথ্যা তখন তাদের আন্তরিকতা সম্পর্কে যে ছায়াটা প্রকাশিত হয় সেটা যেন তাদের প্রচণ্ড প্রগল্ভতার মুখোমুখি হতে চমকে ওঠে। তাকে অসততার ব্যাপারে অভিযুক্ত করুন, সে আপনার দিকে অবাক হয়ে তাকাবে তার দুটো সরল চোখের দৃষ্টি দিয়ে - যেন সে ভীত দৃষ্টিই আপনাকে বলে দেবে যে কী করে আপনি তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন। সে হয়তো চোখে পট্টি আর কানে তুলো দিয়ে যা কিছু তার বিশ্বাস করতে ইচ্ছে নয় সবকিছুকে এড়িয়ে যাবে। এমনকি যখন তার অবস্খানটা একদমই নড়বড়ে তখনও সে তার মতামত কিংবা মতাদর্শকে বাঁচাবার জন্যে শক্তভাবে তার ভুল যুক্তিকে প্রমাণের আন্তরিক চেষ্টা করে যাবে। এ স্বত্ত্বেও যখন কোন দ্রুত সিদ্ধান্তের একান্ত দরকার তখন হয়তো সে তার এমন একটি মতাদর্শকেও বদলে নিয়ে নতুন কিছুকে গ্রহণ করবে। অথচ তার পূর্বতন মতাদর্শটা যেন সে জন্ম থেকেই পেয়ে এসেছে বলে আপনি হয়তো ধারণা করেছিলেন। এরকম পরিবর্তন যখন মেষের মধ্যে ঘটে তখন সেটাও চিরস্খায়ীভাবে ঘটে, সে তার পূর্বের মতাদর্শে কখনই ফিরে যায় না, আর সেটা মনে রাখা তো দূরের বিষয়। অতীতকে আবর্জনার þতূপে ছুড়ে ফেলে দিয়ে তীব্রভাবে ভবিষ্যতে ছুটে চলার স্বভাবের (এটা অন্যতম প্রধান কারণ যার জন্যে মেষেরা খুব সহজেই নতুন পরিস্খিতি এবং মানুষের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে) কারণে মেষরা অন্য যারা এ ব্যাপারে তাকে সৎ কোন পরামর্শ দিতে আসে তাদেরকে ভুল বুঝে বসে আর ভাবে ঐ পরামর্শদাতারা তার অগ্রগতি চায় না। এরপর সে তার ছোট্ট চালটা চেলে সকলকে থামাতে চায়। সে চরমভাবে গোড়া হয়ে ওঠে, প্রতিটি কথা এবং সিদ্ধান্ত মেপে মেপে বলে, যদিও এটা তাদের সহ্যক্ষমতার বাইরে, কেনন
avatar
Admin
এডমিন
এডমিন

পোষ্ট : 806
রেপুটেশন : 41
নিবন্ধন তারিখ : 19/11/2010

http://melbondhon.yours.tv

Back to top Go down

View previous topic View next topic Back to top


 
Permissions in this forum:
You cannot reply to topics in this forum